সম্বোধনের শিষ্টাচার : প্রসঙ্গ রাসুল (صلى الله عليه وسلم) এর প্রতি শব্দ প্রয়োগে সতর্কতা
ক. নির্দেশনায় উদ্ধৃত আয়াত গুলোর বঙ্গানুবাদঃ
১০৪ নং আয়াত এর বঙ্গানুবাদ
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقُوۡلُوۡا رَاعِنَا وَ قُوۡلُوا انۡظُرۡنَا وَ اسۡمَعُوۡا ؕ وَ لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۱۰۴﴾
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ‘রা‘ইনা’ বলে সম্বোধন করো না, (যার অর্থ আমাদের রাখাল) বরং তোমরা বলবে ‘‘উনযুরনা’’ (অর্থাৎ আমাদের প্রতি নেকদৃষ্টি দিবেন!) এবং শুনে নাও, বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের জন্যই রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি।
১০৫ নং আয়াত এর বঙ্গানুবাদ
مَا یَوَدُّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَهۡلِ الۡکِتٰبِ وَ لَا الۡمُشۡرِکِیۡنَ اَنۡ یُّنَزَّلَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ یَخۡتَصُّ بِرَحۡمَتِهٖ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ﴿۱۰۵﴾
গ্রন্থধারীদের (ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান)মধ্যে যারা অবিশ্বাসী তারা ও মুশরিকরা এটা চায় না যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় দয়ায় নির্দিষ্ট করে নেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
এখানে আহলে-কিতাব শব্দদ্বয়ের অর্থ কিতাবওয়ালা বা গ্রন্থধারী। আল্লাহ তা'আলা আহলে কিতাব বলে তাদেরকেই বুঝিয়েছেন, যাদেরকে তিনি ইতঃপূর্বে তার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত সম্বলিত গ্রন্থ প্রদান করেছেন। ইয়াহুদী এবং নাসারারা সর্বসম্মতভাবে আহলে কিতাব। এর বাইরে আল্লাহ তা'আলা অন্য কোন জাতিকে কিতাব দিয়েছেন বলে সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
১০৪-১০৫ নং আয়াতের শানে নুযূল:
বিশিষ্ট তাবেঈ সুদ্দী (রহঃ) বলেন, ইয়াহূদীদের মধ্যে দু’জন লোক ছিল। একজন মালেক বিন সাইফ অন্যজন রিফায়াহ বিন সাঈদ। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কথা বলার সময় راعنا ‘ আমাদের রাখাল’বলে সম্বোধন করত।
সাহাবীগণ মনে করলেন, হয়তো আহলে কিতাবগণ এ কথার দ্বারা নাবীদেরকে সম্মান করে থাকে। তাই সাহাবাগণও এরূপ কথা বলতে লাগলেন।
এ বিষয়কে কেন্দ্র করে উক্ত আয়াত নাযিল হয়। (লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবে নুযুল পৃঃ ২৫) আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সতর্ক করে বললেন: হে মু’মিনগণ! এ অর্থ হল আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী যে আদেশ বা নিষেধ করছেন তা খুব সতর্কতার সাথে খেয়াল কর।
ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন: যখন তুমি আল্লাহ তা‘আলাকে বলতে শুনবে হে মু’মিনগণ!
তাহলে তুমি তা খুব খেয়াল করে শুনবে। কারণ হয়তো কোন কল্যাণের নির্দেশ দিবেন অথবা কোন অকল্যাণ থেকে নিষেধ করবেন।সুতরাং আমাদের যথাযথ সতর্ক হওয়া উচিত। আল্লামা সা‘দী (রহঃ) বলেন: সাহাবাগণ যখন দীনের কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন মনে করতেন তখন বলতেন راعنا অর্থাৎ আমাদের দিকে একটু দৃষ্টিপাত করুন, আমাদের অবস্থা একটু লক্ষ করুন। কিন্তু ইয়াহূদীরা এ সুযোগে উক্ত শব্দকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে লাগল এবং বলতে লাগল راعنا হে আমাদের রাখাল।
এহেন পরিস্থিতিতে আল্লাহ তা‘আলা সাহাবীদেরকে এ শব্দ পরিহার করতে নির্দেশ দিলেন এবং انطرنا অর্থাৎ আমাদের দিকে লক্ষ করুন! এ কথা বলার নির্দেশ দিয়ে এ আয়াত নাযিল করেন। কেননা راعنا শব্দটি দ্ব্যর্থবোধক; এ শব্দটি আমাদের দিকে দৃষ্টিপাত করুন অর্থে ব্যবহার হয় এবং আমাদের রাখাল অর্থেও ব্যবহার হয়।
এর মূল উৎস হল رِعَايَةٌ যার অর্থ হল দেখাশোনা করা। এ আয়াত প্রমাণ করে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন কথা ও কাজ করা যাবে না।
আরো জানা গেল এমন শব্দ যা দ্ব্যর্থবোধক, ভাল-মন্দ উভয় অর্থে ব্যবহার হয়, আদব ও সম্মানার্থে এবং (বেআদবীর) ছিদ্রপথ বন্ধ করতে তার ব্যবহার করা ঠিক নয়। কেননা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যারা কোন জাতির সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, তারা তাদেরই শামিল।
পরবর্তী আয়াতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইয়াহূদী ও মুশরিকদের হিংসার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মুসলিমদের প্রতি তাদের এতই বিদ্বেষ ও আক্রোশ যে, মুসলিমদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে কোন কল্যাণ নাযিল হোক তা তারা চায় না।
তাদের জেনে রাখা উচিত, সবকিছুর প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত প্রদান করেন। তাদের বিদ্বেষ ও আক্রোশে মুসলিদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ রুদ্ধ হয়ে যাবে না।
খ. রাসুল (স.) ও অন্যান্য মুরুব্বিজনের প্রতি শব্দ প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্বঃ (যে কোন ৪টি লিখবে)
রাসুল (স.) নামের প্রতি সম্মান ঈমানেরই অংশ । আমাদের জান-মাল সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এরূপ অধিকার রয়েছে, যা পৃথিবীতে আর কারো নেই।
১। বড়কে সম্মান করা একটি স্বতঃসিদ্ধ এবং সর্বজনস্বীকৃত বিষয়। ইসলামও বড়দের সম্মান করার এবং আলিমদের শ্রদ্ধা করতে গুরুত্বের সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছে। তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যাঁকে আল্লাহ সৃষ্টিকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের মাকাম দান করেছেন দুনিয়াতে এবং আখিরাতে, আর যাঁকে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামসহ সকল বনী আদমের সাইয়েদ ও সরতাজ বানিয়েছেন, রাববুল আলামীনের পর জগৎবাসীর উপর যাঁর অনুগ্রহই সর্বাধিক, স্বয়ং রাববুল আলামীন যাঁকে রাহমাতুল্লিল আলামীন ও খাতামুন নাবিয়ীন উপাধীতে ভূষিত করেছেন তাঁর তা‘জীম ও সম্মান যে গোটা মানবজাতির জন্য ফরয ও অপরিহার্য হবে তা তো বলাই বাহুল্য।
২। রাসুল (স.) এর প্রতি আদব-ইহতেরাম আল্লাহ এমন অপরিহার্য করেছেন যে, এটা ছাড়া কারো ঈমান তাঁর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। এমন সকল কথা-কাজ, আচার-আচরণ আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন এবং লা‘নত ও অভিশাপের কারণ সাব্যস্ত করেছেন যা নবীকে কষ্ট দেয়। আদব-ইহতিরামের যে বিষয়গুলোতে মানুষ কখনো অসচেতন হতে পারে সেগুলো সম্পর্কে কুরআনী আয়াতে স্পষ্ট নির্দেশ দান করেছেন আর তা পালনে যত্নবান হতে আদেশ করেছেন। আর সাবধান করে দিয়েছেন, এর অন্যথা হলে আশঙ্কা রয়েছে যে, সকল আমল বিনষ্ট হবে।’ -সূরা আ‘রাফ ১৫৭; সূরা ফাত্হ ৯; সূরা হুজুরাত ১-৫; সূরা নূর ৬৩; সূরা আহযাব ৫৩, ৫৬-৫৮; সূরা তাওবা ৬১; সূরা বাক্বারা ১০৪; সূরা নিসা ৪৭
৩। সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হলো, অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়ল না সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত।’ এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাসূল (সা.)-এর নাম যখন আসবে, তখন দরুদ পড়াটা হচ্ছে বিধান।
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বখিল বা কৃপণ ব্যক্তির পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, সে হলো ওই ব্যক্তি, যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ সে দরুদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)পড়ে নাই।’ তাহলে বোঝা গেল, যে লোক দরুদ না পড়ে এই কাজটি করছেন, সে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বখিল ব্যক্তি। কুরআনের ৩৩ সূরা আহযাবের ৫৬ তম আয়াতে বলা হয়েছে, "আল্লাহ এবং তার ফেরেশতাগণ বিশ্বনবীর প্রতি আশীর্বাদ প্রেরণ করেন। হে বিশ্বাসীরা! তোমরাও তার প্রতি আশীর্বাদ প্রেরণ কর, এবং শ্রদ্ধার সাথে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো।”
৪। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অভিশাপ দিলেন যে, ‘সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হল, অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরূদ পড়ল না। ’ (অর্থাৎ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলল না)। -তিরমিজি: ৩৫৪৫
৫। বড়দের অসম্মানকারী মহানবী (সা.)-এর উম্মত নয়।পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি মানুষকে পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি। ’ (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৪)। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘ইরশাদ হয়েছে, ‘...তোমরা বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণ করো। তাদের একজন অথবা উভয়ে যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহলে তুমি তাদের প্রতি উহ শব্দটিও উচ্চারণ করবে না এবং তাদের ধমক দেবে না। তুমি তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বলো। আর তাদের প্রতি অনুকম্পায় বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি দয়া করো যেমন তারা আমাকে শৈশবে দয়াপরবশে লালন-পালন করেছিলেন।’ সুরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪
৬। বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার জন্য সবার সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার ও সদালাপি হতে হবে।হজরত নবী করিম (সা.) এই রকম আচরণকারীর জন্য দোজখ থেকে নাজাত পাওয়ার এবং আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। একবার এক সম্মানিত ব্যক্তি তার কাছে এলে তিনি নিজে চাদর বিছিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে যে কোনো সম্প্রদায়ের লোক এলে তাকে সম্মান করো। সম্মান করা ঈমানের জন্য অত্যাবশ্যক।’
৭। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুজরা মোবারকের সামনেও বেশি উচুস্বরে সালাম ও কালাম করা নিষিদ্ধ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্মান ও আদব তার ওফাতের পরও জীবদ্দশার ন্যায় ওয়াজিব। তাই তার পবিত্র কবরের সামনেও বেশী উচুস্বরে সালাম ও কালাম করা আদবের খেলাফ।
কোরআনে বলা আছে, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নবীর আওয়াজের উপর তোমাদের আওয়াজ উঁচু করো না এবং তোমরা নিজেরা পরস্পর যেমন উচ্চস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরকম উচ্চস্বরে কথা বলো না। এ আশঙ্কায় যে তোমাদের সকল আমল-নিষ্ফল হয়ে যাবে অথচ তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না।” আল হুজুরাত -২ নং আয়াত
গ। رَاعِنَا ও ُنْظُرْنَا এর মধ্যে পার্থক্যঃ
رَاعِنَا শব্দটি আরবী ভাষায় নির্দেশসূচক শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে ‘আমাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ বা আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন’। কোন কথা বুঝা না গেলে এই শব্দ ব্যবহার করে শ্রোতা নিজের প্রতি বক্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করত। কিন্তু ইয়াহুদীরা বিদ্বেষ ও অবাধ্যতাবশতঃ এই শব্দের কিছুটা বিকৃতি ঘটিয়ে ব্যবহার করত যাতে তার অর্থের পরিবর্তন ঘটতো এবং তাদের অবাধ্যতার স্পৃহায় মিষ্ট স্বাদ পেত। যেমন তারা বলত, رَاعِيْنَا ‘ রায়ীনা' (আমাদের রাখাল) অথবা رَاعِنَا ‘ রায়েনা' (নির্বোধ)। অনুরূপভাবে তারা السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ এর পরিবর্তে( السَّامُ عَلَيْكُمْ আপনার মৃত্যু হোক!) বলত।
সাহাবাগণ এ শব্দটি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করত। কিন্তু এ শব্দটি ইয়াহুদীদের ভাষায় এক প্রকার গালি ছিল, যা দ্বারা বুঝা হতো বিবেক বিকৃত লোক। তারা এ শব্দটি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শানে উপহাসসূচক ব্যবহার করত। মুমিনরা এ ব্যাপারটি উপলব্ধি না করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শানে ব্যবহার করা শুরু করে, ফলে আল্লাহ তা'আলা এ ধরণের কথাবার্তা বলতে নিষেধ করে আয়াত নাযিল করেন।
অপরদিকে اُنْظُرْنَا শব্দটির অর্থ ‘আমাদের প্রতি তাকান'। এ শব্দের মাঝে ইয়াহুদীদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং এ ধরণের শব্দ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ থেকে আমরা এ শিক্ষা নিতে পারি যে, অমুসলিম তথা বাতিল পন্থীরা যে সমস্ত দ্ব্যর্থমূলক শব্দ এবং সন্দেহমূলক বাক্য ব্যবহার করে থাকে, সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।
তাই বুঝা যাচ্ছে , رَاعِنَا، اُنْظُرْنَا এই দুটি আরবী শব্দের অর্থ প্রায় একই। কিন্তু ইয়াহূদীরা জিভ বাঁকিয়ে বলত رَاعِيْنَا যার অর্থ আমাদের পালের রক্ষক। তাই মুসলিমদের এ শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয় ও উপদেশ দেয়া হয় اُنْظُرْنَا বলতে ।
ঘ। নির্দেশনায় উদ্ধৃত আয়াত গুলোর শিক্ষাঃ
আয়াতগুলো হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. দ্ব্যর্থবোধক শব্দ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
২. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শানে অশালীন শব্দ ব্যবহার ও আচরণ করা যাবে না।
৩. কাফির-মুশরিকদের সাথে সাদৃশ্য হয় এমন কথা ও কাজ বর্জন করা আবশ্যক।
৪. কাফির-মুশরিকরা কখনো ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ চায় না, বাহ্যিক নিজেকে যতই হিতাকাঙ্ক্ষী প্রকাশ করুক।


1 Comments
এটা ডাউনলোড করব কিভাবে
ReplyDelete