যান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ২০২৪ বিষয়: ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান নবম শ্রেণি মূল্যায়ন প্রজেক্টের নাম: পরিবার ও সমাজে আমার ভূমিকা

 যান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ২০২৪ 

বিষয়: ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান; 

নবম শ্রেণি শিক্ষার্থীর জন্য নির্দেশনা

মূল্যায়ন প্রজেক্টের নাম: পরিবার ও সমাজে আমার ভূমিকা


পরিবার ও সমাজে আমার ভূমিকা শীর্ষক এই প্রজেক্টটিতে আমরা ৩টি কাজ ধারাবাহিকভাবে করব। প্রথমে আমরা নিজ ও সহপাঠীর পরিবারের সদস্যদের আত্মপরিচয় এবং আচরণিক প্যাটার্নের বৈচিত্র্য খুঁজে খাতায় লিখব। এরপর পরিবারে আমাদের অবস্থান ও ভূমিকা সম্পর্কে লিখব। দ্বিতীয় কাজটি আমরা জোড়ায় করব। সেখানে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পদ্ধতিতে সহপাঠীর সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন থেকে নববর্ষ উদযাপন বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করে একটি প্রতিবেদন লিখব। সবশেষে নিজ এলাকার মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে একটি কাজ করার কর্ম পরিকল্পনা করব।

কাজ ১: চলো একে অপরের পরিবার সম্পর্কে জানি

ক) নিজ পরিবার

আজ আমরা সহপাঠীর পরিবার সম্পর্কে জানবো। এজন্য আমরা প্রথমে নিজেদের পরিবার সম্পর্কে ছক ১ এ উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করে তথ্যগুলো লিখব

ছক ১: আমার পরিবারের তথ্য

  • আমার পরিবারের সদস্যদের ভৌগোলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আত্মপরিচয়
  • আমার পরিবারের সদস্যদের আচরণিক প্যাটার্ন


খ) নিজ ও সহপাঠির পরিবারের আচরণের বৈচিত্র

দল গঠন: আমরা ৪ জন করে একটি দল গঠন করব।

পরবর্তী কাজ: দলে আমরা নিজ পরিবারের তথ্যগুলো নিয়ে আলোচনা করে নিচের থিমের আলোকে তথ্যগুলো সাজাব।


থিমের আলোকে তথ্য সাজাই





থিম অনুসারে আমরা নিজ ও সহপাঠীর পরিবারের সদস্যদের আত্মপরিচয় ও আচরণিক প্যাটার্নের বৈচিত্র্য লিখি। এজন্য আমরা নিজ ও সহপাঠীর পরিবারের ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈচিত্র্য খুঁজবো। এই বৈচিত্র্যগুলো ব্যাখ্যা করে লিখে প্রকাশ করি। এই বৈচিত্র্যগুলো তুলে ধরার জন্য আমরা প্রয়োজনে সহপাঠীর নাম ব্যবহার করতে পারি। এই কাজটি আমরা নিজ ও সহপাঠীর পরিবারের আত্মপরিচয় ও আচরণিক প্যাটার্নের বৈচিত্র্য নামে খাতায় লিখি

গ) পরিবারে আমার অবস্থান ও ভূমিকা

নিজ পরিবারের কাঠামো বিশ্লেষণ করে পরিবারে আমার অবস্থান ও ভূমিকা সম্পর্কে লিখি। এই কাজটি আমরা এককভাবে করব।


কাজ ২: পরিবার থেকে সমাজ

ক) নববর্ষে আমার ও সহপাঠীর পরিবার

এই কাজটি করার জন্য আমরা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ধাপ অনুসরণ করব। অনুসন্ধানের ধাপগুলো আমরা পাঠ্যপুস্তকের ৬- ৭ নং পৃষ্ঠায় পাব। প্রয়োজনে আমরা আবারো দেখে নিতে পারি।

জোড়া গঠন ও প্রশ্ন তৈরি: আমরা জোড়ায় বসি। আমরা সহপাঠীর পরিবার কীভাবে নববর্ষ উদযাপন করে এবং এই উৎসব

উদযাপনে প্রাকৃতিক ও সামাজিক উপাদানের কোনো প্রভাব আছে কীনা-বিষয়ে কিছু প্রশ্ন তৈরি করব। এরপর একে অপরের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রশ্নগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করব। লক্ষ্য রাখব প্রতিজনের সাক্ষাৎকারের জন্য নির্ধারিত সময় ১৫ মিনিট। ফলে দুজনের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রতিজোড়ায় ৩০ মিনিট পাব। সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত প্রশ্নের উত্তর আমরা খাতায় লিখে রাখব। এরপর আমরা নিচের প্রতিবেদনটি পড়ব।

খ) প্রতিবেদন পাঠ

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। আমরা কি তা জানি? চলো আমরা এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জেনে নিই। ১৫ মিনিটের মধ্যে আমরা এই প্রতিবেদন পাঠ সম্পন্ন করব।


পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ইতিহাস

যেভাবে শুরু

বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ মোটামুটি একমত যে, ১৫৫৬ সালে মুঘল সম্রাট জালালুদ্দিন মোহাম্মদ আকবরের শাসনামল থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্য বলছে, সম্রাট আকবর তার রাজত্বে খাজনা তোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে ১৫৮৪ সালের ১০ বা ১১ই মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন। নতুন সনটির নাম দেয়া হয়েছিল 'ফসলি সন' পরে যা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিতি পায়। এই পুরো কাজটি করা হয়েছিল ফসল উৎপাদনের ঋতুচক্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যাতে ফসল উঠার সময়টাতেই খাজনা আদায় করা যায়।

এর ধারাবাহিকতায় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করতো। এর পরের দিন অর্থাৎ বৈশাখ মাসের প্রথম দিন ভূ-স্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষ্যে তখন মেলা বসতো। আয়োজন করা হতো আরো নানা অনুষ্ঠানের।


জনপ্রিয়তা ইংরেজ আমলে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ইংরেজ শাসনামলে তারা ইংরেজি নববর্ষ খুব ঘটা করে উদযাপন করতো। আর এর প্রতিক্রিয়ায় তৎকালীন ভারতবর্ষের বাঙালিসহ অন্য যে জাতিগোষ্ঠী ছিল তারাও ইংরেজি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের বিপরীতে তাদের নিজস্ব বর্ষ উদযাপন শুরু করে।

পাকিস্তান আমলে

পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের সরকার বাঙালিদের নববর্ষ উদযাপনে বাধা দেয়, বাঙালি মনীষীদের জন্মদিন বা রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উদযাপন নিষিদ্ধ করা, কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন লেখাকে কাট-ছাট করা বা তার লেখাকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে বাঙালিরা তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষ করে বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে প্রতিবছর একত্রিত হওয়া শুরু করলো। এর ধারাবাহিকতায় জন্ম হয় ছায়ানটের। আর এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর রমনা বটমূলে রবীন্দ্র সঙ্গীত গেয়ে বর্ষবরণের আয়োজন করতে থাকে।

সংগৃহিত (অংশ বিশেষ): বিবিসি নিউজ বাংলা (১৪ এপ্রিল, ২০২৩)


গ) সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে খাতায় উপস্থাপন

আমরা ইতোমধ্যে নিজ ও সহপাঠীর পরিবারে উদযাপিত পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছি। উপরের প্রতিবেদন থেকে পহেলা বৈশাখের ইতিহাস সম্পর্কে জেনেছি। এই দুটো তথ্যে উৎস থেকে আমরা যে তথ্য সংগ্রহ করেছি তা নিচে উল্লেখিত দুটি বিষয়ে বিশ্লেষণ করব। জোড়ায় আমাদের মতামত উপস্থাপন করব। এরপর এককভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রকৃতি ও সমাজের প্রভাব শীর্ষক একটি প্রতিবেদন লিখৰ। প্রতিবেদনে নিচের দুটি বিষয় উদাহরণ সহকারে যুক্তি দিয়ে খাতায় উপস্থাপন করব।



সবশেষে আমরা জোড়ায় সহপাঠীর কাজের মূল্যায়নের জন্য সতীর্থ মূল্যায়ন রুব্রিক্সটি খাতায় লিখে পূরণ করব। ২০ মিনিটের মধ্যে আমরা এই কাজটি সম্পন্ন করব।


কাজ ৩: চেতনায় দেশ ও মানুষ

আমরাও

আমরা এরমধ্যে বুঝতে পেরেছি বাঙালির সংস্কৃতি পহেলা বৈশাখ উৎসব উদযাপনে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি এই উৎসব উদযাপনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে তৎকালীন সরকার। কিন্তু বাঙালিরা তাদের অস্তিত্ব ও শেকড় ধরে রেখেছে। তারা নিজেদের ওপর ধেয়ে আসা সব ষড়যন্ত্রকে রুখে দিয়েছে। এজন্যইতো আমরা সাহসী, দেশপ্রেমিক ও আবেগী জাতি। ভালোবাসি মা ও দেশকে। দেশ যেনো আমাদের মা। মাকে যেমন আমরা শ্রদ্ধা করি, বুকে জড়িয়ে ধরে স্বর্গের তৃপ্তি বোধ করি। ঠিক তেমনি দেশের মাটিও যেনো আমাদের জন্য স্বর্গতুল্য। এই মাটির গন্ধ, বাতাস, নির্মল আকাশ যেনো আমাদের কাছে মায়ের মতো প্রিয়।

মুক্তিযুদ্ধে আমাদের দেশের অনেক সন্তান যুদ্ধ করেছেন, দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছে। আমরাও দেশের সন্তান। এখন মুক্তিযুদ্ধ নেই কিন্তু দেশ ও মানুষের জন্য আমরা এখন কী করতে পারি? বাঙালিরা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে দেশের স্বার্থে। ঠিক তেমনি আমাদেরও এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই মিলে একসাথে ভালো কাজ করলেই দেশ ও মানুষের অগ্রগতি হবে। তাই আমরা আবার দলে বসে যাবো। দলে বসে আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা করব। কর্মপরিকল্পনাটি হবে এলাকার মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে একটি কাজ করার পরিকল্পনা। আমরা এই কাজটি দলের সবাই মিলে কখন, কীভাবে ও কার সহায়তায় করব তা ঠিক করবো। এই কাজটির মাধ্যমে কতজন মানুষ কীভাবে উপকৃত হবে ভাও নির্ধারণ করব। প্রত্যেকে খাতায় আমরা এই কর্মপরিকল্পনা লিখব।


Post a Comment

0 Comments