জাতি গঠনে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কৃতিত্ব ও সংস্কারসমূহ : একটি পর্যালোচনা
বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক। মহানবী (স.) আরব সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সংস্কার সাধন করেন যার মধ্যে সমাজ সংস্কার অন্যতম। তিনি শতধা বিভক্ত, মারামারি-হানাহানিতে লিপ্ত, দস্যুবৃত্তিতে পরিপূর্ণ, অন্ধকারাচ্ছন্ন সেই আরব সমাজকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সভ্য, আদর্শপূর্ণ ও আলোকিত সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তাঁরই হাতে গড়া আদর্শবান, উন্নত চরিত্রের অধিকারী সাহাবাদের সহযোগিতায় ন্যায়নীতি ও সাম্যের ভিত্তিতে আরবকে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ জাতিতে পরিণত করেন। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তাঁর সংস্কারসমূহ ছড়িয়ে দিয়ে মহাবিপ্লব সাধন করতে সক্ষম হন।
ক। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর রাজস্ব ব্যবস্থা-
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বিশ্বমানবতার জন্য একটি পরিপূর্ণ আদর্শ জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পূর্ণ নবুওয়ত জীবনে বিভিন্ন সেক্টরের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সেক্টরে অনুপম শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে মজবুত করার জন্য গুরুত্ব দিয়েছেন রাজস্ব আদায়ে। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবনকালে বিভিন্ন উৎস হতে রাজস্ব আদায় করা হতো,এর মধ্য হতে চারটি উৎস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
১. গনিমাত -
আল গানিমাত মানে হলো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ।হাদিসে একে সর্বোত্তম রিযিক বা জীবিকা বলা হয়েছে।মুহাম্মদ (স.) বলেন, আমার রিযিক (জীবিকা) রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। এ কথাটি থেকে বোঝা যায় গনিমাতের মালের থেকে প্রাপ্ত জীবিকা অন্য যেকোনো উপায়ে প্রাপ্ত জীবিকা হতে উত্তম।একে অন্য হাদিসে সর্বোত্তম জীবিকা হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ (স.) এর সময়কালে যুদ্ধলব্ধ মাল গুলোকে রাজস্ব হিসেবে ধরা হতো এবং এগুলো বন্টন করা হতো।গনিমাতের চার পঞ্চমাংশ যোদ্ধাগণের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হত এবং অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ মহানবী (স.) এর জন্য নির্ধারিত হত ।
২.যাকাত-
যাকাত হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে,গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।মুহাম্মদ (স.) এর সময়ে যাকাতকে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
৩. জিযিয়া-
জিযিয়া হলো ইসলামি রাষ্ট্রে ইসলামি আইনের অনুকূলে স্থায়ীভাবে বসবাসরত অমুসলিমদের জনপ্রতি বাৎসরিক ধার্যকৃত কর। মুসলিম ফকীহগণের অভিমত এই যে, অমুসলিমদের মধ্যে করদাতাকে প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন, কর্মক্ষম পুরুষ হতে হবে।মহানবী (স.) এর জীবিতকালে প্রত্যেক সামর্থ্যবান অমুসলমান প্রজাকে বাৎসরিক এক দিনার হিসেবে জিযিয়া কর দিতে হত।
৪.খারাজ( ভূমি রাজস্ব) -
খারাজ হচ্ছে কোন কৃষি জমির উপর ভূমি কর।কুরআন এবং হাদিস অনুযায়ী খারাজ উল্লেখ না থাকলেও ইসলামিক পন্ডিতদের মতামত এবং ইসলামিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তৈরি ইজমাতে এর উল্লেখ রয়েছে।ইসলামী রাষ্ট্র যে জমি কোন অমুসলিমকে বন্দোবস্ত দিয়েছে, এমন জমিকে খারাজি জমি বলে। আর এই জমি হতে যে রাজস্ব আদায় করা হয় তাকে খারাজ বলে।খারাজ সাধারণত বছরে একবার আদায় করা হয়। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে।হযরত মুহাম্মদ (স.) খারাজ ধার্য করেছিলেন উৎপন্ন শস্যের অর্ধেক হিসেবে।
খ। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর চারিত্রিক গুণাবলি
মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মোহম্মদ (স.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারি। তার চরিত্র ছিল অত্যন্ত উন্নতমানের। কোন মানুষ তার সমকক্ষ হওয়া তো দুরের কথা তার কোন একটি গুণাবলীর সমানও হতে পারবে না। তাকে যিনি শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি হলেন মহান প্রভু আল্লাহ্ তায়ালা।মহানবী (স.) এর কিছু চারিত্রিক গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করা হলো-
১. ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা -
নিজেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সর্বদা আল্লাহ্ তায়ালার আনুগত্যের উপর অটল রাখা, অবাধ্যতার নিকটবর্তী না হওয়া, তার সিদ্ধান্তের কারণে হা-হুতাশ না করা এবং তাতে রাগান্বিত না হওয়ার নামই ধৈর্য।রাসুল (স.) ইসলামের দাওয়াতকে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করতে গিয়ে কুরাইশদের কাছ থেকে অমানুষিকভাবে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে ধৈর্যধারণ করেছেন। কোন ষড়যন্ত্রই তাকে দুর্বল করতে পারেনি এবং কোন পক্ষই তাকে টলাতে পারেনি।
২.ক্ষমার প্রতীক -
হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন ক্ষমার মূর্ত প্রতীক। ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নেয়ার নামই ক্ষমা। মক্কা বিজয়ের দিনে রাসুল(স.)মক্কার লোকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করছিলেন। তারা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের ব্যাপারে তার নির্দেশেরই অপেক্ষা করছিল। তিনি বললেন: হে কুরাইশগণ তোমরা আমার কাছ থেকে আজ কেমন ব্যবহার আশা কর? তারা বলল: সম্মানিত ভাই ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মত, তিনি বললেন: তোমরা চলে যাও! আজ তোমরা মুক্ত! তারা তাকে অনেক অত্যাচার নির্যাতন,তিরস্কার,সামাজিকভাবে বয়কট করা এমনকি হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন।
৩. সততা ও সত্যবাদিতা-
নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বেই মহানবী (স.) তার সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য আরব সমাজে সুপরিচিত ছিলেন।সেই জাহেলিয়া যুগেও তিনি ছিলেন অন্যান্য আরব বাসী হতে একদম আলাদা।তার চারিত্রিক মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে আরবগণ তাকে আল আমিন উপাধিতে ভূষিত করে।
৪. সাহসীকতা-
কথাবার্তা, মতপ্রকাশ ও কোন কাজ করতে যাওয়ায় সাহসীকতা প্রদর্শন একটা অত্যন্ত চমৎকার গুণাবলী। রাসুল (স.) যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন সকল মানুষের চেয়ে বেশী সাহসী। তার মত সাহসী মানুষ কোন চোখ দেখেনি।
৫. দানশীলতা-
মুহাম্মাদ (স.) এর দানশীলতা ছিল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। তিনি নিজের কাছে কিছু থাকলে কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি একসময় ইয়েমেনী এক সেট পোশাক পরেছিলেন। একজন এসে পোশাকটা চাইলে তিনি বাড়ীতে গিয়ে সেটা খুলে ফেললেন। এরপর সেটা লোকটির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তার কাছে কেউ কিছু চাইলেই তিনি তা দিয়ে দিতেন।
৬. সরল ও অনাড়ম্বর জীবন -
মহানবী (স.) সরল ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। স্বহস্তে তিনি গৃহের যাবতীয় কাজকর্ম করতেন। বস্তুতপক্ষে সাদাসিধে জীবনযাত্রার আদর্শ দ্বারা তিনি ধর্ম ও কর্ম এবং ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনযাত্রার আদর্শ সমন্বয় সাধন করেন।
৭. লজ্জাশীলতা-
হযরত আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) বলেন: ঘরের ভিতরে অবস্থানকারিনী কুমারী মেয়ের চেয়েও রাসুল (স.) বেশী লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোন কিছু দেখে অপছন্দ করতেন তখন তার চেহারা দেখেই আমরা বুঝতে পারতাম। (বুখারী-৬১০২, ৩৫৬২, ৬১১৯)
মুহাম্মদ (স.) এমনই একজন মহাপুরুষ ছিলেন যিনি নিজেই নিজের তুলনা।তার কৃতিত্বময় ইতিহাস সমগ্র মানব জাতির ইতিহাসে এক সমুজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে।
গ। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর কৃতিত্ব (৪টি লিখবে)
ইসলামের মহান ভ্রাতৃসংঘ এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে হযরত মুহাম্মদ (স.) অক্ষয় কীর্তি রেখে গিয়েছেন।জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি মদিনায় যে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন তা তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। মদিনার সনদে রাষ্ট্রনায়ক এবং সংগঠক হিসেবে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার ছাপ রয়েছে। বিবাদমান আরব জাতিকে সুসংঘবদ্ধ করে তিনি একটি নতুন জাতিতে পরিণত করেন।
১.জাতি গঠন -
ইসলাম এমন একটি স্মরণীয় বিপ্লব যা পৃথিবীর সমস্ত জাতির উপর একটি নতুন ও চিরস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করেছে। আর এই মহান জাতি গঠনের অন্যতম কারিগর মানবতার মহাপুরুষ মুহাম্মদ (স.)। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে তিনি মদিনায় যে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন তার দূরদর্শিতার পরিচায়ক।
২. বিশ্ব শান্তি স্থাপন -
মহানবী (স.) বিশ্ব শান্তির পথিকৃৎ। সহিষ্ণুতা, মহানুভবতা ও শান্তির বাণী তার জীবনের কার্যাবলিকে সার্থক করে তুলেছে। তিনিই একমাত্র মহামানব যিনি তার জীবদ্দশায় তার কার্যের সফলতা অবলোকন করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি মানব জাতিকে শিখিয়েছেন কিভাবে অপরকে ক্ষমার দ্বারা, নরম আচরণের দ্বারা আবার কখনো তলোয়ার দ্বারাও শান্তি স্থাপন করা যায়।
৩. ইসলামি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা -
মহানবী (স.) ছিলেন সকল গুণের অধিকারী। তার জীবন অধ্যয়ন করলে স্পষ্টভাবেই অধ্যয়নকারীকে প্রতিটি ধাপে অবাক হতে হয়।কেননা তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মপ্রচারক,রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ। হুদায়বিয়ার সন্ধির দিকে তাকালে মহানবী (স.) এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়। হুদায়বিয়ার সন্ধির ফলেই রাসুল (স.) বিভিন্ন দরবারে দূত প্রেরণ করে ইসলামের প্রতি বিধর্মীদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করেন। ঐভাবে মদিনার ধর্মভিত্তিক সমাজ হতে উত্তরকালে বিশাল ইসলামি সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে।
৪.কুসংস্কার দূরীকরণ -
প্রাক ইসলামি আরব কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল।রাসুলুল্লাহ (স.) পতনোন্মুখ আরব জাতির মধ্যে জাগরণ আনয়ন কেন,একটি ঘৃণিত আরব জাতিকে সম্মানের উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেন,লুন্ঠনকারী আরব জাতিকে অপরের সম্পদ হিফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলেন, জ্ঞানান্ধ আরব জাতিকে জ্ঞান পিপাসু করে গড়ে তোলেন,আরবের মুশরিকদের তৌহিদবাদীতে রুপান্তরিত করেন,দাস প্রথার বিলোপ সাধনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সভ্যতা বিবর্জিত আরব জাতিকে একটি উন্নয়নশীল সুসভ্য জাতিরূপে গড়ে তোলেন।
ইসলাম ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হিসেবে পৃথিবীর বুক আলোকিত করেন মুহাম্মদ (স.) । তার প্রতিটি কথা ও কার্যকলাপ ভবিষ্যৎ মুসলিম জীবনের পাথেয়। তিনি ছিলেন আদর্শ ত্রাতা,ধর্মপ্রবর্তক, রাষ্ট্র নায়ক,সংস্কারক,আইন প্রণেতা,বিচারক, জাতি গঠনকারী এবং সর্বোপরি আল্লাহর রাসুল।
ঘ। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর সংস্কার সমূহ-
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি আরবের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সংস্কার সাধন করেন। ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন মহানবী (স.) -এর সংস্কারসমূহকে ‘এক অবিস্মরণীয় বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।মুহাম্মদ (স.) কতৃক বিভিন্ন সংস্কার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
১.অর্থনৈতিক সংস্কার -
তৎকালীন আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ঐতিহাসিক পিকে হিট্রির মন্তব্য হচ্ছে, এই যুগে হযরত মুহাম্মদ (স.) আরব বিশ্বে যে অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করেন তা পরবর্তীতে বিশ্বের অর্থনীতিবিদদের নিকট আদর্শ হয়ে থাকে। ইসলামী অর্থনীতি ব্যবস্থা প্রচলন করে তিনি সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টে দিয়েছেন।
ইসলামী জীবন ব্যবস্থা কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের পার্থিব জীবনে আদান-প্রদান, আয়-ব্যয়, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি এর অন্তর্ভুক্ত। মানুষ কিভাবে অর্থ উপার্জন করবে, কিভাবে ব্যয় করবে, কিভাবে ভোগ করবে সে সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (স.) পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে অর্থনীতির সংস্কার করেন।
২.সামাজিক সংস্কার -
হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন একজন যুগান্তকারী সমাজ সংস্কারক।সমাজে তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ ও পদ্ধতি ছিল অনন্য। যুদ্ধ-বিগ্রহ, কলহ-বিবাদ, রক্তপাত, অরাজকতা দূরীভূত করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য-সমপ্রীতির ভিত্তিতে তিনি একটি কল্যাণমূলক আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তিনি দল-মত-গোত্র নির্বিশেষে আরবের জাতি-ধর্ম-বর্ণ সকলের মাঝে শান্তিচুক্তি এবং সন্ধি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে সন্ত্রাসমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করেন। কিশোর বয়সে তিনি ‘হিলফুল ফুযুল’ নামক শান্তিসংঘ গঠন করে সামাজিক অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। মানুষের কল্যাণে তাঁর গড়া স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর প্রথম সাংগঠনিক রীতিতে প্রতিষ্ঠিত আদর্শ সমাজ সংস্কারমূলক প্রতিষ্ঠান।
৩.প্রশাসনিক সংস্কার-
আরব দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার পর হজরত মুহাম্মদ (স.) একে প্রাচীন ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কতিপয় প্রদেশে বিভক্ত করেন। এ প্রদেশগুলো হলো মদিনা , খাইবার, মক্কা, তায়িফ, তায়াম, সানা, ইয়েমেন (নাজরান), বাহরায়েন, উমান ও হাযরামাউত। প্রত্যেক প্রদেশে একজন করে প্রাদেশিক শাসনকর্তা ছিলেন। প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে ‘ওয়ালী’ বলা হতো। তিনি হজরত মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং স্বীয় কার্যকলাপের জন্য তার কাছে দায়ী থাকতেন। নবুয়ত সংক্রান্ত কাজ ছাড়া মদিনায় নবী করিম (স.) যেসব কাজ করতেন, প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে স্বীয় এলাকায় সেসব কাজ করতে হতো।
৪.রাজনৈতিক সংস্কার -
প্রাক ইসলামি আরবে কোন সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল না। বিচ্ছিন্ন গোত্র সম্প্রদায়ে বিভক্ত আরববাসীদের মধ্যে কোন রাজনৈতিক বন্ধন গড়ে ওঠে নি। মহানবী (স.) বিবদমান আরবে জাতির গোত্র ভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটান।ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে একটি নতুন জাতি প্রতিষ্ঠা করেন।
৫.ধর্মীয় সংস্কার -
বিশ্বের সকল ধর্মপ্রচারকদের মধ্যে মুহাম্মদ (স.) সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্বের অধিকারী। পৌত্তলিকতা,ধর্মীয় কুসংস্কার, বাস্তুপূজা যখন আরবের ধর্মীয় জীবনকে কুলষিত করেছিল,ঠিক সেই সময় তনি আবির্ভূত হন ইসলামের বাণী নিয়ে।একেশ্বরবাদের মূলমন্ত্রে রাসুলুল্লাহ (স.) সমগ্র ইসলাম জগৎকে ভ্রাতৃসংঘে আবদ্ধ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, সর্ব যুগের শ্রেষ্ঠতম সমাজ সংস্কারক হযরত মুহাম্মদ (স.) সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ, নিরাপত্তা, ন্যায়নীতি ও ইনসাফ ভিত্তিক আদর্শপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় যে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ফর্মূলা ও সুন্নাহর প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন করে গেছেন তা কিয়ামত পর্যন্ত চিরভাস্মর ও বিদ্যমান থাকবে। যাকে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত:১০৭)
1 Comments
Scientific Soccer Prediction Today【2021】predict Correct Score starvegad starvegad ミスティーノ ミスティーノ 온라인카지노 온라인카지노 306The SEGA Mega Drive/Genesis - VntopBet
ReplyDelete