মদিনার সনদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র : একটি পর্যালোচনা

 


                           মদিনার সনদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র : একটি পর্যালোচনা

মদীনার সনদ হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র বা সংবিধান। এটিকে একটি রাষ্ট্রীয় সংবিধানও বলা যায়। এটি প্রণয়ন করেছেন হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। এই সনদে মোট ৫৩ টি ধারা ছিল। হযরত মুহাম্মদ (স) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন তখন তিনি মদীনার রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। তাই মদিনাকে পরিচালনা করার জন্য এই ৫৩ টি ধারা প্রণয়ন করেন তাই একে মদিনার সনদ বলা হয়। পৃথিবীতে এরপূর্বে কোন রাষ্ট্রনায়ক বা রাজা তার রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য এরকম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন নি। তাই এটাই হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।  

* মদিনার অধিবাসী ও মদিনায় হজরত মুহাম্মদ (স.) এর প্রাথমিক কার্যাবলি:

মদিনাকে আল মদিনা আল নববীইয়া বা 'নবীর শহর' ও বলা হয়ে থাকে।এটি ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্র শহর যেখানে মুসলমানদের শেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর রওযা। এইটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ মুহাম্মাদ(সাঃ) হিজরতের পরে মদিনায় বসবাস করেছেন। নানা ঐতিহাসিক কারণে মদিনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বিশেষ করে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ও পবিত্র এই নগরীটি । 

মহানবী ( সাঃ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত পরবর্তী মদিনায় পাঁচ শ্রেণির অধিবাসীর উপস্থিতি ছিল। যথা-

১. মুহাজিরিন-আল্লাহর হুকুমে মহানবীর সাথে যারা মক্কা ত্যাগ করে মদিনায়  হিজরত করেচিলেন তারাই মুহাজিরিন।

২.আনসার-আনসার একটি ইসলামী পরিভাষা যা দ্বারা হিজরতের পর মুহাম্মদ  ও মুহাজিরিনদের সাহায্য করা মদিনার মুসলিমদের বোঝানো হয়।

৩.ইহুদি -ইহুদি  মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি  ধর্মের অনুসারী।মদিনায় ইহুদিদের বসবাস অনেক আগে থেকেই  ছিল। 

৪.খ্রিস্টান -খ্রিষ্টান বলতে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের বোঝায়।মদিনার অধিবাসীদের মধ্যে একটি বৃহৎ অংশ ছিল খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। 

৫. মুশরিক-যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠি বা গোত্র অথবা জাতি,সৃষ্টিকর্তা হিসাবে মহান আল্লাহকে ব্যতি রেখে অন্য উপাস্য কামনা করে, অথবা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে তখন তাকে মুশরিক বলা হয়।মদিনায় মুশরিকদেরও বসবাস ছিল চোখে পরার মতো।  

মদিনায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রাথমিক কার্যাবলি -

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)  ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার মুশরিকদের অত্যাচার, অতঃ পর আল্লাহ তালা’র নির্দেশে মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করেন।তার এই হিজরত ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে।তিনি মদিনায় পৌছালে মদিনার আনসাররা  তাকে পেয়ে আনন্দে ভাসে। মুহাম্মদ( সাঃ) মদিনায় মসজিদে নববী নামে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মান করেন।এই নির্মান কাজে তিনি অন্যান্য মুসলমানদের সাথে কাজ করেন।মসজিদে নববীতেই তিনি সপরিবারে বসবাস করতেন এছাড়াও ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যাবলিও তিনি এখান থেকে পরিচালনা করতেন। 

মুহাম্মদ (সাঃ) মদিনায় হিজরতের প্রাক্কালে মদিনার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিল চরম শোচনীয়। অথচ তিনি মদিনায় পৌছানোর পর তার আচার আচরণ এবং ইসলামের দ্বীপ্তির দ্বারা মানুষকে পরিবর্তন করতে শুরু করলেন।তৈরী করলেন মসজিদে নববী যাতে মুসলমানদের মধ্যকার ভীত আরও মজবুত হয়,ইসলাম প্রচারকে যেন আরও বেগবান করা যায়।মুসলমানরা মসজিদে নববীতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার জন্য উপস্থিত হতো। এতে মুসলমানদের মধ্যে একতা, আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে।

৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে সেপ্টেম্বর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)  মক্কা থেকে মদিনা নগরীতে আসেন। ধীরে ধীরে নবীর নেতৃত্বে মদিনা মুসলমানদের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে পরিণত হয়। এসময় সেখানে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায় গুলোর মধ্যে গোষ্ঠীগত হিংসা-বিদ্বেষ ছিল। কলহে লিপ্ত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ,  সম্প্রীতি স্থাপন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৪৭ ধারার একটি সনদ বা সংবিধান প্রণয়ন করেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে মদিনার সনদ নামে পরিচিত।মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করার পর বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মদিনা সনদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।

১. নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা -
সংবিধান প্রণয়নের  অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জনগনের কল্যাণ কামনা করা।মদিনা সনদ যেহেতু ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান সেহেতু মদিনা সনদ থেকেই এই ধারণার সূত্রপাত হয়।হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) এর মদিনা সনদে মক্কার কুরাইশ মুহাজির এবং স্থানীয় মদিনার আনসারদের মধ্যকার অধিকার ও কর্তব্যের বিষয়টিও উল্লেখ করেন,যা নাগরিক অধিকারকেই ইঙ্গিত করে। 

২. আইনগত কাঠামো গঠণ-
আইনের শাসন সমাজের অন্ধকার  দূরীভূত করে।মহানবী ( সাঃ) কতৃক প্রবর্তিত মদিনা সনদ আইনের সুস্পষ্ট নিদর্শন। মূলত মদিনাবাসীদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনগত কাঠামো গঠণ করা এবং সর্বোপরি ইসলাম ধর্মের প্রচার এবং মুসলমানদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার তাগিদে মুসলিম ও অমুসলিম প্রত্যেকের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং অধিকার নিশ্চিতকরণ ছিল মদিনা সনদের  অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 

৩. শান্তি প্রতিষ্ঠা-
মদিনার অমুসলমান বিশেষত ইহুদিদের সাথে একটি সমঝোতায় পৌছা এবং মদিনার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক রূপরেখা প্রনয়ণ করে মদিনাবাসীদের জন্য স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা মদিনা সনদের অন্যতম লক্ষ্য  ছিল।

৪.প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় -
একটি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার মাধ্যমে অনেকাংশেই রাষ্ট্রের জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)  মদিনার  মুসলমানদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিয়ে মদিনা নগরীর রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করেন।

মুহাম্মদ (সাঃ)  তৎকালীন মদিনা এবং মক্কার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থার দিকে আলোকপাত করে এবং ইসলামের প্রচার এবং প্রসারকে মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে মদিনা সনদের সূত্রপাত করিছিলেন।মদিনা সনদে উল্লেখ ছিল আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, ছিল অমুসলমানদের সম্মান করার পন্থা এবং রাসুলুল্লাহ ( সাঃ) ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। মদিনা সনদের প্রয়োজনীয়তা অনুসন্ধান করলে, মদিনা সনদ যে ইসলামের  বিজয়ের প্রথম পদক্ষেপ ছিল তা প্রতীয়মান হয়।

মদিনা সনদের গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ : (১৩ থেকে ১৫ টি লিখবে)

 মদিনা সনদে মোট ৫৩ টি ধারা রয়েছে। তবে মতান্তরে এ সনদের ধারা ৪৭টি অথবা ৫২টি। এর উলে­খযোগ্য ধারাগুলো নিন্মরূপ-

১। মদিনা সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলমান, ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিকসহ সব সম্প্রদায় একটি সাধারণ জাতি গঠন করবে এবং সব সম্প্রদায় সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।

২। হজরত মুহাম্মদ (সা.) নব গঠিত মদিনা প্রজাতন্ত্রের সভাপতি হবেন এবং পদাধিকার বলে তিনি মদিনার সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সর্বময় কর্তা হবেন।

৩।  সব নাগরিক পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

৪। কেউ কুরাইশদের সঙ্গে বা অন্য কোনো বহিঃশত্রুর সঙ্গে কোনো প্রকার গোপন সন্ধি করতে পারবে না কিংবা মদিনাবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে কুরাইশদের সাহায্য করতে পারবে না। কোনো সম্প্রদায় মদিনা প্রজাতন্ত্রের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজে লিপ্ত হতে পারবে না।

৫। সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ জন্য সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না।

৬। স্বাক্ষরকারী কোনো সম্প্রদায়কে বহিঃশত্রু আক্রমণ করলে, সব সম্প্রদায়ের লোকেরা সমবেত প্রচেষ্টায় বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করবে।

৭। বহিঃশত্রু আক্রমণে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়সমূহ স্ব-স্ব যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করবে। যুদ্ধের খরচ কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী এককভাবে বহন করবে না। এতে যৌথ প্রচেষ্টার পথ সুদৃঢ় হয়।

৮। মদিনা নগরীকে পবিত্র বলে ঘোষণা করা হলো এবং এখানে রক্তপাত, হত্যা, বলাৎকার ও অপরাধমূলক কাজ নিষিদ্ধ করা হলো।

৯। দুর্বল ও অসহায়কে সার্বিকভাবে সাহায্য ও রক্ষা করতে হবে। 


১০।  অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং সব ধরনের পাপী ও অপরাধীকে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে।

১১। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পূর্ব অনুমতি ছাড়া মদিনাবাসী কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে না।

১২। নিজেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তা মীমাংসা করে দেবেন।

১৩। ইহুদিদের মিত্ররাও সমান নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা ভোগ করবে। 


১৪। এই সনদের শর্ত ভঙ্গকারীর ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হবে।

মদিনা সনদের গুরুত্ব

ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় মদিনা সনদের গুরুত্ব খুব বেশি। মদিনা সনদ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। মহানবি (স.) সর্বপ্রথম জনগণের কল্যাণ-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রীয় শাসনে দেশের সব সম্প্রদায় ও জনগণের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি এই সনদ প্রণয়ন করেন।মদিনা সনদের গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হল-  (৪টি লিখবে)  


১। মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমান সম্প্রদায়কে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে হিংসা, দ্বেষ ও কলহের অবসান ঘটায়। বিপদে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। মদিনা রাষ্ট্র তথা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সংরক্ষণে সবার সমভাবে যুদ্ধব্যয় বহন করার ব্যবস্থা, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক। 

২। মদিনা সনদ গোত্র প্রথার বিলোপসাধন করে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধের ভিত্তিতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্মীয় অনুশাসন পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। অধ্যাপক পি. কে. হিট্টির  মতে মদিনা প্রজাতন্ত্রই পরবর্তীকালে বৃহত্তম ইসলামি সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল স্থাপন করে। 

৩। মদিনা সনদ মুসলমান ও অমুসলমানদের ধর্মে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিশ্চয়তা বিধান করে। মদিনার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা একে অপরের ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। হযরত মুহাম্মদ (স.) এ শর্ত দ্বারা যে মহানুভবতা ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দেন, তা বিশ্বের ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

৪। মদিনা সনদের মাধ্যমে মহানবি (স.) দীর্ঘকালব্যাপী যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত আরব জাহানকে একতাবদ্ধ করার একটি মহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত মদিনা নগরীর পুনর্গঠনের প্রয়াস পান। মদিনা সনদ প্রণীত হওয়ায় শতধাবিভক্ত মদিনাবাসী শান্তি-শৃঙ্খলায় ফিরে পায়। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারিত হয়। মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতি এ সনদের ফলেই গড়ে ওঠে।

মদিনা সনদ ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহানবি (স.) মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মদিনার ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক, আনসার ও মুহাজিরদের নিয়ে একটি বহুজাতিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করেন। আর এ কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের চুক্তিই হলো ঐতিহাসিক মদিনা সনদ। এ সনদের মাধ্যমে মদিনাবাসী
সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপিত হয়। উক্ত সংবিধানে সাম্যের মহান নীতি, আইনের শাসন, ধর্মের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ঘোষণা করা হয়। সর্বোপরি এ সনদের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়।


Post a Comment

0 Comments