সফলতা অর্জনের উপায় : প্রসঙ্গ সবর

 


                                           সফলতা অর্জনের উপায় : প্রসঙ্গ সবর 

ক. নির্দেশনায় উদ্ধৃত আয়াত গুলোর বঙ্গানুবাদঃ

১৫৩ নং আয়াত এর বঙ্গানুবাদ 

 یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۵۳﴾


হে মুমিনগণ, ধৈর্য (সবর) ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের (সবরকারীদের) সাথে আছেন। 

১৫৪ নং আয়াত এর বঙ্গানুবাদ 

 وَ لَا تَقُوۡلُوۡا لِمَنۡ یُّقۡتَلُ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ اَمۡوَاتٌ ؕ بَلۡ اَحۡیَآءٌ وَّ لٰکِنۡ لَّا تَشۡعُرُوۡنَ ﴿۱۵۴﴾


যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা অনুভব করতে পার না।

১৫৫ নং আয়াত এর বঙ্গানুবাদ 

وَ لَنَبۡلُوَنَّکُمۡ بِشَیۡءٍ مِّنَ الۡخَوۡفِ وَ الۡجُوۡعِ وَ نَقۡصٍ مِّنَ الۡاَمۡوَالِ وَ الۡاَنۡفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۵۵﴾ۙ


নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। (হে পয়গম্বর!) আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।

১৫৩-১৫৫ নং আয়াতের শানে নুযূল: 

নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তেরোটি বছর মক্কায় ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।  সত্য-সন্ধানী কিছু সংখ্যক লোক তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে তাঁর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হন। কিন্তু মুশরিক নেতাদের দাপটের কারণে মক্কার অধিকাংশ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেনি। এই দিকে ইয়াসরিবের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ইয়াসরিবে ইসলামী দাওয়াতের প্রসার ঘটে। এমতাবস্থায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন  মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর অনুসারীদেরকে ইয়াসরিবে হিজরাত করার নির্দেশ দেন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইয়াসরিব পৌঁছেন। ইয়াসরিবে গড়ে তোলেন ছোট একটি রাষ্ট্র। তখন থেকে ইয়াসরিব হয় আল মদিনা। মাদানী যুগের একেবারে গোড়ার দিকে সূরা আল বাকারার বৃহত্তর অংশ নাজিল হয়। সুদ নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত আয়াতগুলো নাজিল হয়েছিলো মাদানী যুগের শেষ দিকে। এই আয়াতগুলোকেও এই সূরায় শামিল করা হয়। আবার, যেই আয়াতগুলো দিয়ে এই সূরাটির সমাপ্তি টানা হয়েছে সেই আয়াতগুলো মাক্কী যুগের শেষভাগে মিরাজের সময় নাজিল হয়েছিলো।

বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্যের কারণে সেই আয়াতগুলো এই সূরায় সংযুক্ত করা হয়। হিজরাতের পূর্বে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতি তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে মুশরিকদের মধ্যে। হিজরাতের পর আরেক শ্রেণীর লোক তাঁর সামনে আসে। এরা ছিলো ইয়াহুদি। আল মদিনার উপকণ্ঠে তাদের বিভিন্ন গোত্র বসবাস করতো। এরা আত্তাওরাতের অনুসারী বলে দাবি করতো। আসলে তারা আত্তাওরাতকে বিকৃত করে ফেলেছিলো। আত্তাওরাতে তারা মানুষের কথা মিশিয়ে নিয়েছিলো। আত্তাওরাতের যেই সব আয়াত তখনো অবিকৃত ছিলো সেইগুলোকে তারা নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যা দ্বারা বিকৃত করে ফেলেছিলো। এরা ছিলো আসলে বিকৃত মুসলিম। ইসলামী দাওয়াত মাদানী যুগে প্রবেশ করার পর আরেক শ্রেণীর মানুষের আবির্ভাব ঘটতে শুরু করে। এরা ছিলো মুনাফিক। এদের কেউ কেউ ইসলামের সত্যতা স্বীকার করতো, কিন্তু এর প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে দ্বন্দ্ব-প্রতিদ্বন্দ্বে নিয়োজিত হতে তারা প্রস্তুত ছিলো না। এদের কেউ কেউ ইসলাম ও জাহিলিয়াতের মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় ছিলো। এদের কেউ কেউ আসলে ইসলামকে অস্বীকারই করতো, কিন্তু ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলিমদের দলে প্রবেশ করতো।

এদের কেউ কেউ একদিকে মুসলিমদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতো, অন্যদিকে ভালো সম্পর্ক রাখতো ইসলামের দুশমনদের সাথে। শেষাবধি যারাই বিজয়ী হোক না কেন, এতে যেনো তাদের স্বার্থ হানি না ঘটে সেই বিষয়ে তারা ছিলো খুবই সজাগ। সূরা আলবাকারা নাজিলের সময় বিভিন্ন ধরনের মুনাফিকের আত্মপ্রকাশ ঘটতে শুরু করেছিলো মাত্র, তাই এই সূরাতে তাদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মুমিনদের চিন্তা-চেতনা, কামনা-বাসনা এবং আমল-আখলাক পরিশীলিত করার জন্য বিভিন্ন সবক দেয়া হয়েছে।

আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা – 

১৫৩ নং আয়াতঃ 

মানুষের জীবনে অনেক সংকট ও সমস্যা আসে। সেগুলো মোকাবেলা করার শক্তি যদি তার না থাকে তাহলে বলতে হবে সে ব্যর্থ। কিন্তু ঈমানদার মানুষ এইসব বাধা বিপত্তির মোকাবেলায় দু'টি কাজ করে। তারা বিপদ ও সংকটের সময় ধৈর্য ধারণ করে এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। অর্থাৎ ঈমানদার নিজের ভেতরের শক্তি ও পাশাপাশি আল্লাহর অসীম শক্তির ওপর নির্ভর করে বিপদ মোকাবেলা করে। আল্লাহও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি ধৈর্যশীল নামাজীদের সহায়তা করবেন এবং সর্বাবস্থায় তিনি তাদের সাথে থাকবেন। আর বিপদের সময় আল্লাহর সাহায্যের চেয়ে বড় আর কি হতে পারে?

১৫৪ নং আয়াতঃ 

আগের আয়াতে ধৈর্য ও প্রতিরোধের কথা বলার পর এই আয়াতে আল্লাহর পথে জিহাদ ও শাহাদত সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, মানুষের জীবনে আর্থিক ও নানা ধরনের সংকট আসতে পারে। তবে এক শ্রেণীর কপট ও বিভ্রান্ত মানুষ নিজেরা তো জিহাদ বা আল্লাহর পথে সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেই না বরং তারা অন্যদেরকে বিভিন্ন কৌশলে এ পথ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। তারা আল্লাহর রাস্তায় শহীদদের সম্পর্কে বলে থাকে, আহা এই লোকটি অনর্থক নিজের জীবনটা নষ্ট করল। বদরের যুদ্ধে চৌদ্দ জন মুসলমান শহীদ হয়েছিলেন। তখন কেউ কেউ শহীদদেরকে মৃত বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, এবং মুসলমানদেরকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, শহীদদেরকে মৃত বলা যাবে না বরং তারা জীবিত, যা মানুষের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

১৫৫ নং আয়াতঃ  

এই পার্থিব জগত হলো একটি পরীক্ষার জায়গা। আল্লাহ তা'লা প্রত্যেক মানুষকেই পরীক্ষা করেন। তবে সবার পরীক্ষা একই স্তরের নয়। আল্লাহ যাকে যেমন জ্ঞান, মেধা এবং জীবনোপকরণ দিয়েছেন তাকে ঠিক তার অনুপাতেই পরীক্ষা করা হবে। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কিংবা জালেমের হাত থেকে মজলুমকে উদ্ধার করার জন্য যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিও একটি পরীক্ষা। আল্লাহ পাক দেখতে চান মানুষ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে কি না। এছাড়া আর্থিক অনটন, দারিদ্র, জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি এসবই পরীক্ষা হিসেবে মানুষের জীবনে আসে। মানুষ এসব বালা-মুসিবতের সময় কি ধরনের আচরণ করে তাই পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। তবে আল্লাহ তা'লা মানুষকে পরীক্ষা করার অর্থ এই নয় যে, তিনি মানুষকে চেনেন না, মানুষের প্রকৃতি তাঁর জানা নেই। এর অর্থ হচ্ছে- আল্লাহ পাক মানুষকে পরীক্ষার মাধ্যমে তার ভেতরে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চান এবং মানুষকে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পুরস্কার লাভের উপযোগী করতে চান।

খ. সবরের পরিচয় ও প্রকার

‘সবর’ আরবী শব্দ।এর আভিধানিক অর্থ হল ধৈর্য, দৃঢ়তা, সংযম অবলম্বন ও নফসের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করা। আর পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, শত্রুর অত্যাচার, অসুস্থতা, রোগ-ব্যাধি, স্বজনের বিচ্ছেদ প্রভৃতি সংকটময় মুহূর্তে বিচলিত এবং অস্থির না হয়ে বিপদ থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা এবং আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষা করা।

হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সবর তিন প্রকার- 

১. ‘সবর আনিল মাসিয়াত’ অর্থাৎ পাপাচার পরিহার করার সময় সবর 
২. ‘সবর আলাত তআত’ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসুলের হুকুম পালনার্থে সবর 
৩. ‘সবর আলাল মুসিবাত’ অর্থাৎ বিপদাপদের সময় সবর

১. পাপাচার পরিহার করার সময় সবর - 

নফস বা প্রবৃত্তিকে হারাম ও নাজায়েয বিষয়াদি হতে বিরত রাখা। আর এটাই সবরের অন্যতম প্রধান কাজ। কেননা হারাম বা নিষিদ্ধ এবং অবাঞ্ছিত কাজের প্রতি নফসের বেশি আকর্ষণ থাকে। পরনারীর দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকানো, তাদের সাথে অবাধে মেলামেশা করা, তাদের সাথে ক্লাবে, পার্টিতে কিংবা পার্কে আড্ডা দেয়া ইত্যাদি অশ্লীল কর্মের প্রতি নফসের ঝোক বেশি থাকে। তাই নফসকে দমন এবং নিয়ন্ত্রণ করে এ ধরনের অশ্লীল, সমাজবিবর্জিত, নিন্দাজনক ও অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকাই হলো সবচেয়ে বড় ধৈর্যের পরিচায়ক। এই প্রকারের ধৈর্য আয়ত্ব করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ জন্যে নফসের সাথে অবিরত সংগ্রাম করতে হয়। এটা একটা বড় রকমের জিহাদ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সবচেয়ে বড় জিহাদ হলো নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।’

২. আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসুলের হুকুম পালনার্থে সবর -

সবরের দ্বিতীয় পর্যায় হলো নফসকে ইবাদত ও আনুগত্যে বাধ্য করা, ইবাদত যথা নিয়ম পালন করার অভ্যাস করতে হবে। মানুষের আত্মা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত রুটিন মাফিক করতে চায় না। শীতকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে অজু করার কষ্ট, ভোরে সুখের নিদ্রা ত্যাগ করে নামাযের জন্য জাগ্রত হওয়ার কষ্ট এবং দুনিয়ার কাজকর্মে নিমগ্ন থাকা অবস্থায় আযানের শব্দ শুনে মসজিদে যাওয়ার কষ্ট বরণ করে নেয়া একজন মানুষের পক্ষে বেশ কঠিন কাজ। আর এ সমস্ত ব্যাপারে নিজের নফসকে প্রশ্রয় না দিয়ে নির্দেশ যথাযথভাবে পালনের জন্য তাকে বাধ্য করা হল সবরের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ।
আল্লাহপাক মানুষকে সৃষ্টি করে তার আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এ নির্দেশ অমান্য করে সে নিজের খেয়াল অনুযায়ী জীবন ধারণ করবে এটা হতে পারে না। মানুষের প্রতিটি কাজই স্রষ্টার নির্দেশিত পন্থায় সম্পন্ন করতে হবে।

৩. বিপদাপদের সময় সবর- 

যে কোন বিপদে ও সংকটে ধৈর্য ধারণ করা। এটা আল্লাহর পরীক্ষা। আল্লাহর নিকট এই সবরের জন্য অনেক বড় পুরস্কার রয়েছে। কুরআনে পাকে ইরশাদ হয়েছে, 
“তোমাদেরকে আমি ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির দ্বারা অবশ্য পরীক্ষা করব। আর তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলগণকে” (সূরা বাকারা : ১০০)

গ. সফলতা অর্জনে সবরের গুরুত্ব 

সবর একজন শক্তিশালী মনের মানুষের প্রধান গুণ। ধৈর্য গুণটি মানুষকে সব বিপদ আর দূরাবস্থার মধ্যে আশা করার শক্তি যোগায়। যার মাঝে ধৈর্যের অভাব রয়েছে, সে আসলে পাপিষ্ঠ শয়তানের দলভুক্ত। কারণ, হাদীসের ভাষ্যমতে, ‘তাড়াহুড়া শয়তানের কাজ’। একজন মানুষের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার ক্ষমতা তার সামনে থেকে যে কোনো বাধাকে অপসারণ করতে পারে। যে কোনো কঠিন কাজকে সহজতর করে দেয় এই মহৎ গুণটি। ধৈর্য বা সবরের গুরুত্ব বুঝার জন্য মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় অগণিত আয়াত নাযিল করেছেন। 

১। সূরা আল-ইমরানের ২০০ নং আয়াতে মুমিনদেরকে ধৈর্য ধারণ ও ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যের প্রতিযোগিতা করো এবং সুসম্পর্ক স্থাপনে আত্মনিয়ন্ত্রণের সংগ্রামে অবিচল থাক, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’

২। ধৈর্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সূরা আসরে আল্লাহ বলেন, ‘মহাকালের শপথ, মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা-১০৩ আসর,আয়াত: ১-৩)। এই সূরার শেষে ধৈর্যকে সাফল্যের নিয়ামকরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি (আল্লাহ) যখন আমার মুমিন বান্দার কোনো আপনজনকে মৃত্যু দিই, আর সে সবর করে, তখন আমার কাছে তার একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (বুখারি)।

৩। ধৈর্য বা সবর ইসলামের সৌন্দর্য। মানব চরিত্রের উত্তম গুণাবলির অন্যতম হলো সবর বা ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা। পবিত্র কোরআনে স্থানে স্থানে মহান আল্লাহ নিজেকে ধৈর্যশীল ও পরম সহিষ্ণু হিসেবে পরিচয় প্রদান করেছেন। বলেন, ‘এবং আল্লাহই তো সম্যক প্রজ্ঞাময়, পরম সহনশীল।’ (সূরা হজ, আয়াত: ৫৯)।

৪। ধৈর্য ধারণকারীর সাফল্য সুনিশ্চিত কারণ আল্লাহ তাআলা ধৈর্য ধারণকারীর সঙ্গে থাকেন; আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাঁর সঙ্গে থাকবেন তাঁর সফলতা অবধারিত। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সহিত আছেন।’ (সুরা: ২ বাকারা, আয়াত: ১৫৩)।

ঘ. তারকিবসমূহ 


اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ

اسْتَعِينُوا = فعل+الضمير (و) فاعل
ب = الحرف الجار
الصبر= مجرور، معطوف عليه
و = حرف العطف
الصلاة = معطوف
جار+مجرور= متعلق بفعل "استعينوا"
 فعل+فاعل+ متعلق= جملة فعليةإنشائية


إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

إِنَّ= الحرف المشبه بالفعل
اللَّهَ= إسم إنّ
مَعَ= مضاف
الصَّابِرِينَ= مضاف إليه
مضاف+مضاف إليه= خبر إنّ (ظرف)
إسم إنّ+ خبر إنّ= جملة إسمية خبرية



Post a Comment

0 Comments