ইসলামে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর অবদান : একটি পর্যালোচনা

 


                         ইসলামে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর অবদান : একটি পর্যালোচনা

পৃথিবীর ইতিহাসে বিশ্বনবীর পর অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, মাধুর্য ব্যবহার, ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠতা, অগাধ জ্ঞানের গভীরতা, কালজয়ী আদর্শিক একনিষ্ঠতা, কুরআনের নীতি-জ্ঞানে পরিপক্বতা, দায়িত্ব পালনে কর্তব্য-নিষ্ঠা, অধিকার বস্তবায়নে ত্যাগের মহিমা আর নিঃস্বার্থ প্রজা পালনে সমগ্র পৃথিবীব্যাপী যত রাষ্ট্রনায়ক সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম যাঁর নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি আশারায়ে মুবাশ্বারার একজন।তিনি ছিলেন মুহাম্মদ (সা:) এর প্রধান সাহাবি, ইসলামের প্রথম খলিফা এবং প্রথম মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণের সম্মান তাকেই দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি রাসুল মুহাম্মদ (সা:) এর শ্বশুর ছিলেন। রাসুল মুহাম্মদ (সা:) এর মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন এবং মুসলিমদের নেতৃত্ব দেন। যিনি আর কেউ নন, আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। 

ক। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর প্রাথমিক জীবন : 
(প্রকৃত নাম, বংশ পরিচয়, জন্ম ও ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কিত তথ্যসহ লিখবে) 

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) মক্কায় কুরাইশ বংশের ‘তাইম' গোত্রে ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। 
তাঁর প্রকৃত নাম আব্দুল্লাহ/আবদুল্লাহ। উপনাম ছিল আবু বকর।‘আতিক' ও ‘সিদ্দীক' ছিল তাঁর উপাধি।  
তাঁর পিতা হলেন ওসমান ওরফে আবু কুহাফা এবং মাতা ছিলেন সালমা ওরফে উম্মুল খায়ের।আরবের রীতি অনুযায়ি তিনি তাঁর ছেলের নাম বকর থেকে আবু বকর অর্থাৎ বকরের পিতা নামে পরিচিতি লাভ করেন।তাঁর পিতা-মাতা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি ছিলেন পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান। তিনি ছিলেন উজ্জল গৌরবর্ণ, পাতলা ছিপছিপে ও প্রশস্ত ললাট বিশিষ্ট। শেষ বয়সে চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল । মেহেদীর খিজাব লাগাতেন।

তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর প্রায় তিন বছরের ছোট ছিলেন। যৌবনে আবু বকর তাঁর নৈতিক আদর্শের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।সে যুগে মক্কায় অল্প যে কয়জন ব্যক্তি লেখাপড়া জানতেন, আবু বকর (রা) ছিলেন তাদের অন্যতম। বংশপঞ্জী বিষয়ে তাঁর বিশেষ পাণ্ডিত্য ছিল। আবু বকর (রা.) পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন সম্মানিত কুরাইশ ব্যক্তিবর্গের অন্যতম। তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও সহনশীল ছিলেন।

রাসুল (স.) এর নবুওয়াত লাভের পর যখন মক্কায় হৈ চৈ পড়ে গেল।হযরত মুহাম্মদ (স.) যখন মানুষকে ইসলাম গ্রহণের জন্য দাওয়াত দিলেন।  মক্কার প্রভাবশালী ধনী নেতৃবৃন্দ তাঁর বিরোধিতায় কোমর বেঁধে লেগে যায়। কেউবা তাঁকে মাথা খারাপ, কেউবা জীনে ধরা বলতে থাকে । নেতৃবৃন্দের ইংগিতে ও তাদের দেখাদেখি সাধারণ লোকেরাও ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়। কুরাইশদের ধনবান ও সম্মানী ব্যক্তিদের মধ্যে একমাত্র আবু বকর রাসুল (স.) এর সঙ্গ দেন, তাঁকে সাহস দেন এবং বিনা দ্বিধায় তাঁর নবুওয়াতের প্রতি ঈমান আনেন।

এই প্রসঙ্গে রাসুল (স.) বলেছেনঃ ‘আমি যাকেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, একমাত্র আবু বকর ছাড়া প্রত্যেকের মধ্যে কিছু না কিছু দ্বিধার ভাব লক্ষ্য করেছি।’ এভাবে বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে আবু বকর (রা.)ই সর্ব প্রথম বিনা দ্বিধায়  ইসলাম কবুল করেন। তার প্রচেষ্টায় অনেকেই ইসলাম কবুল করেন এবং হযরত বিলাল (রা.) সহ অনেক দাসকে তিনি শৃঙ্খলামুক্ত করেন। হযরত উমর (রা.) বলেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর “ইসলামের সেবায় আবু বকরকে কেউ অতিক্রম করতে পারেনি।”

খ। রিদ্দা যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ : (যুদ্ধের নামকরণ, ঘটনা, কারণ ও ফলাফল লিখবে)

* নামকরণ -
‘রিদ্দা’ আরবী শব্দ। এর অর্থ প্রত্যাবর্তনকরণ  বা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া। আবু বকরের (রা.) স্বল্পকালীন খিলাফতের বেশীর ভাগ সময় রিদ্দার (স্বধর্ম ত্যাগের) যুদ্ধে ব্যাপৃত ছিল। বস্তুত মহানবী (স.) এর ইনতিকালের পর হেজাজ প্রদেশ ছাড়া প্রায় সমগ্র আরব দেশ নব প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এসময় কতিপয় ভণ্ড নবীর উদ্ভব ঘটে। মুসলমানদের একদল যাকাত দানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। সমগ্র আরবে অন্তর্বিপ্লব দেখা দেয়। ইসলামের বিরুদ্ধে আরব গোত্রগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে। ইহুদি- খ্রিস্টানগণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। সর্বত্র বিদ্রোহ আরম্ভ হয়। শীতের রাতের রাখাল বিহীন মেষ পালনের ন্যায় মুসলমানগণ চরম দুর্দশায় নিপতিত হয়। মূলত মহানবীর (স) মৃত্যুর পর ইসলাম বিরোধী শক্তিসমূহ এবং ভণ্ড নবীদের পরিচালিত আন্দোলন ইসলামের ইতিহাসে ‘রিদ্দা বা স্বধর্মত্যাগী আন্দোলন' এবং এ আন্দোলন দমনে হযরত আবু বকর (রা) ঘোষিত যুদ্ধ ‘রিদ্দা যুদ্ধ' নামে পরিচিত। 

রিদ্দা যুদ্ধের কারণ-
১। ইসলাম প্রসারে বিঘ্নঃ রাসূল (স)-এর ইনতিকালের পূর্বে আরবের বিভিন্ন গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেছিল। ফলে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও জীবনাদর্শের মূল অনুশাসন সম্পর্কে তাদের অনেকেই অজ্ঞ ছিল। এছাড়া দীর্ঘকাল যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থাকা, যোগাযোগের অভাব, সময়ের স্বল্পতা, সংঘবদ্ধভাবে ইসলাম প্রচারের অভাবে এসব লোকজন ইসলামের বিরোধিতা শুরু করে।

২। মদীনার প্রাধান্যঃ রাসূলের জীবদ্দশায়ই মদীনা ইসলামের প্রাণকেন্দ্র ও রাষ্ট্রের রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তাঁর ইন্তিকালের পর মক্কায় একশ্রেণীর লোক ও অন্যান্য কুচক্রীমহল মদীনার প্রাধান্যকে অস্বীকার করে বসে।

৩। ব্যক্তি স্বার্থে আঘাতঃ আরববাসীদের মধ্যে গোত্রপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বাতন্ত্র্যবোধ, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নেতৃত্বের লোভ ছিল। কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার ফলে এসব বিলীন হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠিত হয় ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্য-মৈত্রীর সুমহান আদর্শ। ফলে বেদুঈনদের মনে দারুণ আঘাত হানে। তারা যেহেতু গোত্রের দলপতিকে অন্ধের মতো অনুসরণ করতো, তাই গোত্রপতির ধর্ম ত্যাগের সাথে সাথে তারাও ধর্মত্যাগী হয়ে বিদ্রোহ করে।

৪। নবুওয়াত প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাঃ নবুওয়াতের পদ ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তাই কতিপয় লোক সম্মান ও পদমর্যাদার লোভে মিথ্যা নবুওয়াতী দাবি করে। আর মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আরববাসীদেরকে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলে।

৫। ইসলামের বৈপ্লবিক পরিবর্তনে বিরোধিতাঃ প্রাক ইসলামী যুগে আরবে এমন কোন অন্যায় কাজ ছিল না যা আরববাসীরা করতো না। রাসূল (স) ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সকল স্তরে আমূল পরিবর্তন করে শতধা বিচ্ছিন্ন একটি জাতিকে সুশৃ´খল সুসভ্য জাতিতে পরিণত করেন। এতে বেদুইনরা খুশি হতে পারেনি। কাজেই তাঁর মৃত্যুর পর স্বার্থপর বেদুঈনরা ইসলামের বিধানের বিরোধিতা শুরু করে।

৬। ইসলামের নৈতিক অনুশাসনের বিরোধিতাঃ ইসলামের নৈতিক অনুশাসন, রুচিসম্মত ও মার্জিত জীবনযাত্রায় স্বাধীনচেতা অনুশাসনমুক্ত আরববাসীরা অভ্যস্ত ছিল না। চিরদিনই তারা ছিল দূরন্ত বাধা-বন্ধনহীন। তাই ইসলামের সালাত, যাকাত, সাওম প্রভৃতি নৈতিক অনুশাসনকে তারা মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি। বরং নিজেদের উপরএগুলোকে যুলুম মনে করলো। আর এ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ইসলাম ত্যাগ করতে উদ্বুদ্ধ হল।

৭। যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতিঃ রিদ্দা যুদ্ধের অন্যতম কারণ ছিল যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি। আরবের কতিপয় লোক মনে করলো, এ যাকাত ব্যবস্থা নবীর সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল। নবী যেহেতু ইনতিকাল করেছেন, তাই এর প্রয়োজন নেই। ফলে তারা আবু বকর (রা)-এর খিলাফতের সময় যাকাত দিতে অস্বীকার করলো।

৮। অমুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধাচরণঃ এক দিকে ইসলাম ত্যাগী বেদুঈন স্বার্থান্বেষী গোত্রপতি ও ভণ্ডনবীদের অপতৎপরতা শুরু হয় অন্যদিকে বিধর্মীদের মধ্যে ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা এ মোক্ষম সুযোগ বুঝে ইসলামের বিরোধিতা বাড়িয়ে দেয়। এদের ইন্ধনে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে।

৯। বিচার-বুদ্ধির অভাবঃ পরিবেশের অভাবে আরবদের মন ও মস্তিষ্ক সুষ্ঠুভাবে বিকাশ লাভ করতে পারেনি। ফলে বিচারবুদ্ধি তাদের খুব কম ছিল। তারা অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেও পরে অস্থির খেয়ালী মনের দ্বারা পরিচালিত হয়ে এর বিরুদ্ধাচরণ করে।
এসব কারণে আরবের বিভিন্ন গোত্রের মানুষ ইসলাম ত্যাগ করে পুরোনো ধর্মে ফিরে যাওয়ার জন্য আন্দোলন সৃষ্টি করে।

* ঘটনাপ্রবাহ

খলীফা আবু বকর (রা.) স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। তিনি আরবের বিভিন্ন প্রান্ত হতে সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন। সমগ্র সেনা বাহিনীকে তিনি ১১ টি ভাগে বিভক্ত করে এক এক ভাগকে এক এক অংশে প্রেরণ করলেন। তিনি মদীনার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করলেন। মুসলিম সেনাপতিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন- খালিদ বিন ওয়ালিদ, ইকরাম, শুরাহবিল, মুহাজির বিন আবি উমাইয়া উল্লেখযোগ্য। হযরত আবু বকর (রা.) সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। মদীনা ছিলো সেনাবাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু। এই সকল যোগ্য সেনাপতির নেতৃত্বে একে একে সকল ভণ্ড নবীকে পরাজিত করা হলো। বিদ্রোহী গোত্রগুলো একের পর এক পরাজিত হল এবং খলীফার বশ্যতা স্বীকার করে নেয়।  

*ফলাফল
১। ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হলোঃ মহানবী (স)-এর ইনতিকালের পর ইসলামের শক্তি কিছুটা কমে গেলেও আবু বকর (রা)- এর আপ্রাণ চেষ্টায় সমগ্র আরবে আবার ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

২। ইসলামের অখণ্ডতা বজায়ঃ প্রাক ইসলামী যুগে আরব বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও এলাকায় বিভক্ত ছিল। ইসলাম এসে অখণ্ড জাতি হিসেবে আরবকে মর্যাদার আসন দেয়। কিন্তু নবীজীর ইনতিকালের পর আরববাসীরা বিভক্ত হয়ে পড়লে পুনরায় আবু বকর (রা) ইসলামের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সক্ষম হন।

৩। স্থায়ী মর্যাদা লাভঃ মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার ভণ্ডনবীদের ওপর জয়লাভের পর ইসলাম অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে স্থায়ী মর্যাদা লাভ করলো।

৪। মুসলমানদের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধিঃ  রাসূলের (স) ইনতিকালের অল্পকালের মধ্যেই ইসলামের এ ধরনের ব্যর্থতা দেখে অনেক মুসলমানের মনেও সংশয় ছিল। আবু বকর (রা)-এর দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হলে মুসলমানদের অন্তরে ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি পায়। 

৫। রাষ্ট্রের ভিত্তি আরো মজবুত হলঃ মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার অধীনে শক্ত হাতে ধর্মত্যাগী ও বিদ্রোহীদের দমন করা হলে এ রাষ্ট্রের শক্তি ও ভিত আরো মজবুত হয়, যা বিরোধীদের কাছে অপরাজেয় মনে হয়েছিল।

৬। জয়ের দিগন্ত উন্মোচনঃ অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা দমনের পর আরবের বাইরে ইসলামের শক্তি সম্প্রসারণ করার অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আবু বকর (রা) ইরাক, সিরিয়া প্রভৃতি অঞ্চল জয় করেন। এবং এরই সাথে ইসলামের জয়ের দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

পরোক্ষ ফলাফল
রিদ্দার যুদ্ধে মুসলমানরা নতুন নতুন কৌশল আয়ত্ত করে সামরিক দিক থেকে আরো শক্তিশালী হয়। রিদ্দা যুদ্ধের সময় রোমান ও পারসিকরা সীমান্ত প্রদেশে ধর্মত্যাগীদেরকে নানাভাবে সাহায্য করেছিল। তাই পরবর্তীকালে খলিফাগণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এর প্রতিশোধ নিতে বাধ্য হন। ফলে অল্পদিনের মধ্যেই পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য মুসলমানদের দখলে আসে।

গ। নির্বাচনের ব্যাপারে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এর মূলনীতিঃ (১০ থেকে ১২টি লিখবে)

হযরত আবু বকর (রা) এর মূল নীতিগুলো নিম্নরূপ-

১। ব্যক্তি নির্বাচনঃ হযরত মুহাম্মদ (স) এর যুগে যে ব্যক্তি যে পদে নিয়োজিত ছিলেন, হযরত আবু বকর (রা) তাকে সেই পদেই বহাল রাখেন। কোন কাজের জন্য হযরত আবু বকর (রা) ঐ ব্যক্তিকে সর্বাগ্রে নির্বাচন করতেন যিনি রসুলুল্লাহ (স) এর পবিত্র সাহচর্য থেকে অধিক জ্ঞান আহরণের সুযোগ পেয়েছেন। 

২। স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকাঃ সঠিক প্রশাসনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির পৃষ্ঠপোষকতা থেকে দূরে থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়। হযরত আবু বকর (রা) এ নীতি কঠোরভাবে পালন করতেন। তিনি তাঁর প্রশাসকদেরকেও এই ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিতেন। 

৩। প্রশাসকদের মনঃতুষ্টি ও মর্যাদার দিকে লক্ষ রাখাঃ একটি রাষ্ট্রে শিষ্টাচার ও সুশাসনের সবচেয়ে বড় কথা হলো সেখানকার প্রশাসকদের সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণভাবে রক্ষা করা এবং তাদের সাথে স্বেচ্ছাচারমূলক ব্যবহার না করা। হযরত আবু বকর এ দুটি বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। তাছাড়া তিনি শাসনকর্তা নিয়োগকালে তাঁদের তীক্ষ্ম প্রতিভার দিকটি বিবেচনা করতেন। 

৪। নির্বাচন সতকর্তাঃ যেসব লোক কোনো কারণে একবার নির্ভরশীলতা হারিয়েছে আবু বকর (রা) তাদেরকে ক্ষমাপ্রার্থী হওয়ার পরও কোন দায়িত্বশীল পদ প্রদান করতে সংকোচ বোধ করতেন। সততা, অকপটতা এবং ইমানের দৃঢ়তা ইত্যাদিতে তাদের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাসের কোনরূপ দূর্বলতা থাকলে খলিফা তাদের নির্বাচনে সতর্ক থাকতেন।

৫।পরীক্ষামূলক নিয়োগঃ বর্তমান যুগের সাধারণ নিয়মানুযায়ী যতক্ষণ পর্যন্ত কারো দক্ষতা ও উত্তর কার্যাবলি সম্পর্কে বিশ্বাস জন্মে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে সংশ্লিষ্ট পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়। স্থায়ী পদোন্নতির জন্য শর্ত হল উত্তম কার্যাবলি। হযরত আবু বকর (রা) এসব নিয়মাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খবাবে পালন করতেন।

৬। পদচ্যুতিঃ নিয়োগের পর কেউ অযোগ্য বলে প্রমাণিত হলে আবু বকর (রা.) তাকে বিনা দ্বিধায় পদচ্যুত করতেন। এজন্য একবার হযরত খালিদ ইবন সাউদকে পদচ্যুত করা হয়।  
৭। বাইতুল মালঃ রসুলুল্লাহ (স.) -এর যুগেই বাইতুল মাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার প্রতিষ্ঠা ও এর কার্যক্রম শুরু হয়। হযরত আবু বকর (রা) এর সকল ব্যবস্থাপনা হযরত আবু ওবায়দার (রা) ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি বাইতুল মালের আমদানি ও ব্যয়ের হিসাব রাখতেন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। 

৮। ফাতাওয়া বিভাগঃ ইফতা অর্থাৎ শরীয়তের আহকাম প্রচার ও ফাতাওয়া প্রদানের জন্য তাকওয়া ছাড়াও ফিকহী জ্ঞানের প্রয়োজন। আর এটা এমন একটা সম্পদ যা শুধু আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছে প্রদান করেন। আবু বকর (রা)-এর ফাতাওয়া বিভাগে যাঁদেরকে নিয়োগ করা হয়েছিল তাঁদের নাম হল- হযরত আলী (রা) হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা), হযরত উবাই ইবনে কাব (রা), হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত (রা) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা)।   

৯। পুলিশ বিভাগঃ তখনকার দিনে দৈনন্দিন নাগরিক জীবনে শৃঙ্খলা বিধানের জন্যে পুলিশ বিভাগের মতো পৃথক কোন বিভাগ ছিল না এবং প্রকৃতপক্ষে এর বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবুও উপস্থিত চাহিদা মেটানোর জন্য কয়েকজন যোগ্য ব্যক্তিকে এই কাজে নিয়োগ করা হয়। 

১০। হযরত আবু বকর (রা.)-এর ভাতাঃ  প্রথমত তিনি সরকারি কোষাগার থেকে নিজে কোন ভাতা গ্রহণ করতেন না। ব্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে ব্যবসায়ে নিয়োজিত থাকলে শাসনতান্ত্রিক কাজ বিঘ্ন হওয়া আশংকায় মসলিসে শূরার পরামর্শক্রমে প্রয়োজনীয় ভাতা গ্রহণ করতেন। অবশ্য মৃত্যুর পূর্বে তিনি তা ফেরত দিয়ে গেছেন।   

১১। অর্থ ব্যবস্থাঃ হযরত আবু বকর (রা.) তার সংক্ষিপ্ত খিলাফতের সময় প্রধানত আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব, জাতীয় ঐক্য এবং বাইরের আক্রমণ হতে এর নিরাপত্তা বিধানে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সে কার্যপদ্ধতি ও সরলতা পাওয়া যায়, যা রসুলুল্লাহ (স.) -এর পবিত্র যুগে ছিল। অতএব হযরত আবু বকর (রা) এর যুগের অর্থ ব্যবস্থা জানতে হলে স্বয়ং রসুলুল্লাহ (স.) এর যুগের অর্থ ব্যবস্থা জানতে হবে। 

১২। সেনা বিভাগঃ রসুলুল্লাহ (স.) এর সময় নিয়মতান্ত্রিক কোনো সেনাবিভাগ ছিল না। সমস্ত সাহারা ইসলামি মুজাহিদ ছিলেন। যখন আবশ্যক হতো সাহাবিগণ নিজেরাই ইসলামি ঝাণ্ডার নীচে সমবেত হতেন। খলিফার যামানায়ও সেই অবস্থা ছিল- যখন প্রয়োজন হতো মুসলমানগণ বীরত্বের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতেন। তবে যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে যেতে হত, তখন সেনাবাহিনীকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে ভিন্ন ভিন্ন কর্মকর্তা ঠিক করে দিতেন। সমগ্র সেনাবাহিনীর জন্য একজন সিপাহসালার নিযুক্ত করতেন।  
  
১৩। অমুসলিম নাগরিকদের সাথে আচরণঃ বিধর্মী ও জিম্মীদের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করার জন্য খলিফা পরামর্শ দিতেন। এ সময় জিযিয়ার পরিমাণও ছিল সামান্য, বহু সংখ্যক জিম্মি জিযিয়ামুক্ত ছিল। অমুসলিমগণ নিজ ধর্ম ও নাগরিক স্বাধীনতা পূর্ণভাবে ভোগ করত ও তাদের জান মালের পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। 

ঘ। উত্তম শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)  (যেকোনো ৪টি লিখবে)

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও অন্যান্য খলীফাদের ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠায় একই রুপ শাসন ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। নিচে উত্তম শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় তার কয়েকটি নীতি উল্লেখ করা হলঃ  

১। শূরা ভিত্তিক সরকার -
হযরত আবু বকর (রা)-এর নীতি ছিল, তাঁর সামনে কোন বিষয় উত্থাপিত হলে তিনি
প্রথমে দেখতেন এ ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব কী বলে, সেখানে কোন নিদের্শনা না পেলে এ ধরনের ব্যাপারে রাসূল (স.) কী ফয়সালা দিয়েছেন তা জানতে চেষ্টা করতেন। রাসূলে করীম সা. এর সুন্নায়ও কোন নির্দেশ না পেলে জাতির নেতৃত্ব স্থানীয় এবং সৎ ব্যক্তিদের সমবেত করে পরামর্শ করতেন। সকলের পরামর্শক্রমে যে মতই স্থির হতো, তদানুযায়ী ফয়সালা করতেন। তিনি সরকারের কার্যাবলী সমাধান এবং আইন প্রণয়নের ব্যাপারে জাতির বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের অধিকারী ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ না করে কোন কিছুই করতেন না।

২। বায়তুলমালকে আল্লাহ ও জনগণ প্রদত্ত একটি আমানত হিসেবে বিশ্বাস করা-

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও খোলাফায়ে রাশেদূন এর সবাই বায়তুলমালকে আল্লাহ ও জনগণের আমানত মনে করতেন। বেআইনীভাবে বায়তুলমালের মধ্যে কিছু প্রবেশ করা ও বেআইনীভাবে তা থেকে কিছু চলে যাওয়াকে তারা বৈধ মনে করতেন না। শাসক শ্রেণীর ব্যক্তিগত স্বার্থে বায়তুলমাল ব্যবহার তাঁদের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ছিল। খোলাফায়ে রাশেদূনের প্রত্যেক সরকার বায়তুলমালকে আল্লাহ এবং জনগণের আমানত মনে করে সত্য-ন্যয়-নীতি মোতাবেক এক একটি পাই পয়সা উসূল করতেন। আর তা ব্যয়ও করতেন সত্য-ন্যায়-নীতি অনুসারে।  

৩। জনসাধারণের সেবক - 
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেদের মর্যাদা এবং কর্তব্য সম্পর্কে খোলাফায়ে রাশেদূন কি ধারণা পোষণ করতেন, স্বীয় রাষ্ট্রে তাঁরা কোন্ কোন্ নীতি মেনে চলতেন ? খেলাফতের মঞ্চ থেকে ভাষণ দিতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই প্রকাশ্যে এসব বিষয় ব্যক্ত করেছেন। মসজিদে নববীতে গণ বায়আত ও শপথের পর হযরত আবু বকর (রা.) যে ভাষণ
দান করেন তাতে তিনি বলেছিলেনঃ  
“আমাকে আপনাদের শাসক নিযুক্ত করা হয়েছে, অথচ আমি আপনাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। আল্লাহর শপথ, আমি নিজে ইচ্ছা করে এ পদ গ্রহণ করিনি। অন্যের পরিবর্তে আমি নিজে এ পদ লাভের চেষ্টাও করিনি। এজন্য আমি কখনো আল্লাহর নিকট প্রার্থনাও করিনি। মুসলমানদের মধ্যে মতবিরোধ এবং আরবদের মধ্যে ধর্ম ত্যাগের সূচনা হবে এ আশংকায় আমি অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এ পদে আমার কোন শান্তি নেই। বরং এটা এক বিরাট বোঝা, যা আমার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। আমার ইচ্ছা ছিল অন্য কেউ এ গুরু দায়িত্বভার বহন করুক। এখনো আপনারা ইচ্ছা করলে নবী করীম (স)-এর সাহাবীদের মধ্য হতে কাউকে এ কাজের জন্য বাছাই করে নিতে পারেন। আমার বায়আত এ ব্যাপারে আপনাদের প্রতিবন্ধক হবে না। ”

৪। বংশ ও গোত্রের পক্ষপাতহীন শাসন- 
খোলাফায়ে রাশেদূন যুগের আর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, ইসলামের নীতি এবং অনুযায়ী তাঁরা বংশ-গোত্র এবং দেশের পক্ষপাতের উর্ধে উঠে সকল মানুষের সাথে সমান আচরণ করতেন- কারো প্রতি কোন রকম পক্ষপাতিত্ব করা হতো না। মদীনায় যখন হযরত আবু বকর (রা) এর হাতে বায়আত অনুষ্ঠিত হয়, তখন গোত্রবাদের ভিত্তিতে হযরত সাদ ইবনে উবাদা (রা) তাঁর খেলাফত স্বীকার করা থেকে বিরত ছিলেন। 

৫। গণতন্ত্রের চর্চা - 
সমালোচনা ও মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতাই এ খেলাফতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম। খলীফাগণ সর্বক্ষণ জনগণের নাগালের মধ্যে থাকতেন। তাঁরা নিজেরা শূরার অধিবেশনে বসতেন এবং আলোচনায় অংগ্রহণ করতেন। তাঁদের কোন সরকারী দল ছিল না। তাঁদের বিরুদ্ধেও কোন দলের অস্তিত্ব ছিল না। মুক্ত পরিবেশে সকল সদস্য নিজ নিজ ঈমান এবং জ্ঞানের ভিত্তিতে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সামনে সকল বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপন করতেন। কোন কিছুই গোপন করা হতো না। ফায়সালা হতো দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে, কারোর দাপট, প্রভাব-প্রতিপত্তি, স্বার্থ সংরক্ষণ বা দলাদলির ভিত্তিতে নয়।  

৬। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহই আইন রচনার ভিত্তি - 

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) সর্বোপরি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন।  পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহই আইন রচনার ভিত্তি ছিল। যে বিষয়ে তাতে কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যেত না, সে বিষয়ে ইজতিহাদ (গবেষণা) পদ্ধতিতে রাসূলের আমলের বাস্তব দৃষ্টান্ত ও অনুরূপ ঘটনাবলীর সামঞ্জস্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে এর সমাধান বের করা হতো এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীস পারদর্শী প্রতিটি নাগরিকেরই রায়
প্রকাশের সমান অধিকার স্বীকৃত ছিল। কোন বিষয়ে সকলের মতৈক্যের সৃষ্টি হলেই সে সম্পর্কে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। ফিকাহ-শাস্ত্রের পরিভাষায় একেই বলে ‘ইজমা’। ইসলামী শরীয়াতে এটা সর্বজনমান্য মূলনীতি বিশেষ। আর কোন বিষয়ে মতবৈষম্যের সৃষ্টি হলে খলীফা কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে নিজস্ব রায় প্রকাশ করতেন এবং তদনুযায়ী কার্য  সম্পাদন করতেন। 

হযরত আবু বকর (রা.) এর আড়াই বছর খিলাফতকাল ইসলামের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মহানবী (স.) এর সহচর হিসেবে এবং মহানবী (স.) এর ওফাতের পর প্রথম খলিফা হিসেবে আবু বকর (রা.) এর অবদান ছিল অপরিসীম। অরাজকতা, প্রতারণা , ভন্ডামি, ধর্ম ও দেশদ্রোহীদের তিনি যোগ্যতার সাথে মোকাবিলা করেন। তিনি মহানবী (স.) এর সাথে বদর, ওহুদ খন্দক, তাবুক এবং অন্যান্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের ব্যয়ভারের বড় একটা অংশ বহন করেন। 
আবু বকর (রা.) এর রাজত্বকালে মদিনা নগরীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর বাণী শিক্ষা দেওয়ার জন্য সর্ব প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপন করেন। হযরত আবু বকর রা অনেক ক্রীতদাসকে নিজের অর্থ দিয়ে ক্রয় করে মুক্ত করে দেন। 
আবু বকর (রা.) ভণ্ডনবীদের পরাজিত করে সমগ্র আরব উপদ্বীপে শন্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।খলিফা হিসেবে হযরত আবু বকর (রা.) এর অবদান সত্যিই অনবদ্য। অভ্যন্তরীণ বিশৃংঙ্খলা দূর, জাতীয় সংহতি অর্জন এবং ইসলামের প্রভাব সম্প্রসারণের পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করে তিনি পরবর্তী অগ্রগতির পথ সুগম করেন। ইসলামি জীবন ব্যবস্হা ও ইসলামি রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা এবং বহুবিধ কৃতিত্বের জন্য তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।      












Post a Comment

0 Comments