ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পরিপূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন : প্রেক্ষিত খুলাফায়ে রাশেদিন

 


             ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পরিপূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন : প্রেক্ষিত খুলাফায়ে রাশেদিন

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর ইন্তেকালের পর যে চারজন প্রধান সাহাবী ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করিয়াছেন, ইতিহাসে তাহাদিগকেই “খুলাফায়ে রাশেদিন”নামে অভিহিত করা হয় এবং তাঁহাদের পরিচালিত রাষ্ট্র-ব্যবস্থাকেই বলা হয় “খিলাফতে রাশেদা”। ‘খুলাফায়ে রাশেদিন’ এর শাসন দীর্ঘকাল স্থায়ী না থাকলেও বিশ্বের ইতিহাসে তাহা সর্বাধিক মর্যাদা লাভ করিতে সমর্থ হইয়াছে। শুধু মুসলিম ঐতিহাসিকগণই নয়,অমুসলিম-এমন কিনা মুসলিম-দুশমন ঐতিহাসিকগণও –খুলাফায়ে রাশেদিনের শাসন আমলকে মানব-ইতিহাসের ‘স্বর্ণ-যুগ’ বলে শ্রদ্ধা জানাতে বাধ্য হয়েছেন।  

ক। খুলাফায়ে রাশেদিনের নাম, পরিচয় ও শাসনকালঃ

শাব্দিক অর্থ-  খুলাফায় রাশেদিন এর শাব্দিক অর্থ ন্যায়পরায়ণ, ন্যায়নিষ্ঠ, সঠিকভাবে পথনির্দেশপ্রাপ্ত খলিফা। আর এখানে খলিফা শব্দের অর্থ প্রতিনিধি। কুরআনের ভাষায় প্রত্যেক মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র খলিফা। কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহর নেতাকে খলিফা বলা হয়। 

পারিভাষিক সংজ্ঞা- ইসলাম ধর্মের শেষ বাণীবাহক আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পর সাহাবায়ে (রাঃ) কেরামদের মধ্যে ইসলামী বিশ্ব শাসনকারী চার জনকে খুলাফায়ে রাশেদিন বা সত্য ও ন্যায়পথগামী  বলা হয়। তাঁরা বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর ওফাতের পর তার প্রতিনিধিরুপে পর্যায়ক্রমে  ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব দেন। তারা ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য আল্লাহ্‌ তার রাসুলের নির্দেশিত পথ অনুযায়ী নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাষ্ট্রের শাসন কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছেন। 

খুলাফায়ে রাশেদিনের নাম ও শাসনকাল- 

১। আবু বকর (রাঃ) (৬৩২-৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) - হযরত আবু বকর (রা:) ইসলাম ধর্মের প্রথম খলিফা, হযরত মুহম্মদ (স.) এর শ্বশুর। মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল আবদুল্লাহ্, আবু বকর ছিল তার ডাক নাম।  তিনি আশারাতুল মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত। হযরত মুহাম্মদ (স.) এর প্রিয় সাহাবি ছিলেন। তাছাড়া ইসলামের প্রথম মুসলিম পুরুষ হযরত আবু বকর (র:)।

ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি সিদ্দীক (সত্যবাদী) এবং আতিক (দানশীল) খেতাব লাভ করেছিলেন।আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ অনেককে ইসলাম গ্রহণে অণুপ্রাণিত করেছে। তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ যোগান। তার দ্বারা উৎসাহিত হয়ে অনেকে গ্রহণ করেছিলেন।আবু বকর ছিলেন ইসলামের এক জলন্ত নক্ষত্র । তাঁর শাসনামলে ইসলাম ও জনগনের জন্য তিনি যুদ্ধও করেছেন। আবু বকরের খিলাফত ২৭ মাস অর্থাৎ দুই বছরের কিছু বেশি সময় স্থায়ী ছিল।

২। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ)-
হযরত উমর (রাঃ) ছিলেন ঘোর ইসলাম বিরোধী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর নবুওয়াতের প্রথম পর্যায়ে। মক্কার নবদীক্ষিত মুসলিমদের উপর তিনি নির্যাতন চালাতেন । তিনি ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন বটে, কিন্তু পরোক্ষে ইসলামের প্রভাবে তাহার শুভবুদ্ধি ক্রমশ জাগরিত হয়েছিল। রাসূল (স.) এর অজ্ঞাতসারে একদা তাহার মুখে কোরআনের আবৃত্তি শুনে তাহার মনে ভাবান্তর ঘটার বর্ননা পাওয়া যায় । একদিন ভগিনী ও ভগ্নীপতিকে ইসলামে গ্রহণের জন্য নির্দয়ভাবে শাসন করতে  গিয়ে নিজেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং রাসূল (স.) এর নিকট উপস্থিত হইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন । ইসলাম গ্রহণের ফলে তাহার জীবনের আমূল পরিবর্তন হয় । পরবর্তীকালে তিনি ইসলামের সেবার অক্ষয়কীর্তি  রেখে যান ।হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খিলাফাতকালে হযরত উমর (রাঃ) ই ছিলেন তার প্রধান উপদেষ্টা । মৃত্যুর পূর্বে তিনি উমর (রাঃ) কেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত মনোনীত করেন, সাহাবীগণও সর্ব-সম্মতভাবে উমর (রাঃ) কে তাহাদের খলীফারুপে গ্রহণ করেন এবং এইরূপে নেতা নির্বাচনের আরবীয় প্রথানুসারে জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই উমার (রাঃ) তাঁর খিলাফাত শুরু করেন । তাঁর জীবন যাপনের মান সাধারণ নাগরিকের অনুরূপ ছিল । এই বিষয়ে হযরত উমর (রাঃ) এর দৃষ্টান্ত সত্যই বিরল ।

৩। উসমান ইবন আফ্‌ফান (রাঃ) (৬৪৪-৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ)-
 হজরত উসমান (রা.) প্রথম পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর উৎসাহে তিনি দ্বীনে ইসলাম গ্রহণ করেন যৌবনে, যখন তাঁর বয়স ত্রিশের কোটায়। তিনি নিজেই বলেছেন, 'আমি ইসলাম গ্রহণকারী চারজনের মধ্যে চতুর্থ।' হজরত আবু বকর, হজরত আলী ও জায়েদ বিন হারিসের পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।উসমান (রাঃ) এর রাজত্বকালে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলামিক নৌবাহিনি গড়ে তুলেছিলেন।উসমান(রাঃ) অনেক বিশিষ্ট সাহাবাদেরকে উনার নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে, রাজত্বের অবস্থা, জনগনের সুযোগ সুবিধা, অসুবিধা, অবস্থা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, তার বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখার লক্ষে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠাতেন। উসমান(রাঃ) বারো বছর যাবৎ খলিফা হিসেবে রাজত্ব করেছিলেন। এই রাজত্বকালের প্রথম ছয় বছর রাজ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যয় করেছিলেন এবং তিনি খুব খুলাফায়ে রাশেদিনদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, পরবর্তী সময়ে তিনি রাজ্য বিস্তার করেছিলেন।


৪. আলী ইবনে আবু তালিব(রাঃ) (৬৫৬-৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ)-
হযরত আলী (রাঃ) (৬৫৬ – ৬৬১) ইসলামের চতুর্থ ও শেষ খলিফা । হয়রত আলী কোরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন । শিশু বয়স থেকেই তিনি হযরত মুহাম্মদের সঙ্গে লালিত-পালিত হন ।বালক দের মধ্যে তিনি সর্ব প্রথম বালক যিনি নবুয়তের ডাকে সাড়া দিয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন একজন অকুতভয় যোদ্ধা । বদর যুদ্ধে বিশেষ বীরত্তের জন্য মুহাম্মদ তাঁকে জুলফিকার নামক তরবারি উপহার দিয়েছিলেন । খাইবারের সুরক্ষিত কামূস দুর্গ জয় করলে মহানবী তাঁকে “আসাদুল্লাহ” বা আল্লাহর সিংহ উপাধি দেন ।হযরত আলী(রাঃ) একজন দুঃসাহসী এবং দক্ষ কৌশলী যোদ্ধা ছিলেন। তিনি হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে প্রায় সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মহানবী(সাঃ) এর কন্যা হযরত ফাতিমা(রাঃ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। খেলাফতের নির্বাচনের পরপরই তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজধানী, মদীনা থেকে ইরাকের কুফায় সরিয়ে নেন, যা ছিল অধিকতর কেন্দ্রীয় একটি স্থান।

খ। খিলাফত যুগের বৈশিষ্ট্যঃ (যেকোনো ৪টি লিখবে) 

‘খিলাফত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘প্রতিনিধিত্ব’।ইহার ব্যবহারিক অর্থ, ‘অন্য কাহারো অপসৃত হওয়ার পর তাহার স্থানে উপবেশন করা’।খিলাফত হল সরকারের ইসলামী রুপ যা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক একতার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই খিলাফত একটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতিস্থান। নিচে খিলাফত যুগের কিছু বৈশিষ্ট্য দেওয়া হল- 

১। সার্বভৌমত্বঃ সার্বিকভাবে আল্লাহ পাকের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা হল ইসলামী খিলাফতের মূলনীতি।কারণ এই পৃথিবীর সকল কিছুর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।তার উপর কোন সার্বভৌমত্ব নেই।এ বিশ্বাস রেখে ইসলামী খিলাফত পরিচালিত হয়েছে। আল্লাহ এ ব্যাপারে কুরআনে বলেন,
আল্লাহ্ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না। [আনআমঃ৫৭]
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব তাঁরই। [হাদীদঃ২৫]

২। শুরাভিত্তিক শাসনব্যবস্থাঃ এই ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দেয় না। তা মানুষের সাথে মানুষের পরস্পর পরামর্শের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করার ব্যাপারে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ব করে থাকে। তাই আল্লাহ বলেন,
“কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন”। [ইমরানঃ১৫৯]
“পারসপরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে”[শুরাঃ৩৮]
মুহাম্মদ(সাঃ) বলেছেন, “তোমরা কোনকিছু কুরআন-হাদীসে না পেলে পরামর্শ করে মীমাংসা দিবে।” উমর (রাঃ) পরামর্শের উপর জোড় দিয়ে বলেছেন, “যে রাষ্ট্রে মুসলমানদের পরামর্শ নেই তা খিলাফত নয়।” খলিফা কেবল নিজস্ব মত অনুসারেই কার্য সম্পাদন করতে পারে না,জনসমর্থিত ও যোগ্য-সুদক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত মজলিসে শূরা’র সাথে পরামর্শ করে তাকে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে হয়। মজলিসে শূরার সংখ্যাগরিষ্ঠ মত অনুসারেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়,এ কথা ঠিক;কিন্তু তা সত্ত্বেও সংখ্যাধিক্য খিলাফতী শাসন-ব্যবস্থায় ভাল-মন্দ বা করনীয়-বর্জনীয় নির্ধারণের কোন স্থায়ী মানদণ্ড না।  

৩। সুবিচার নিশ্চিত করাঃ ইসলামী রাজনীতির অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য হল সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। খুলাফায়ে রাশেদার যুগের ইসলামী রাষ্ট্র সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পিতা-মাতার বিরুদ্ধে হলেও সাক্ষ্য প্রদানের আদেশ করেছেন মহান আল্লাহ তাআলা। বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো; আল্লাহর জন্য ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবু।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৩৫) ‘সুবিচার কর এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী’। [মায়িদাঃ৮] তৎকালীন ইসলামী বিচারব্যবস্থায় বিচারপ্রাপ্তির জন্য খলিফাকেও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। খলিফা আলী (রা.) বর্ম হারিয়ে যাওয়ার পর তা এক ইহুদির কাছে দেখতে পেয়ে বিচারকের দারস্থ হন।এ ছাড়া খলিফা ওমর (রা.) মদ্যপানের অপরাধে নিজের পুত্রকে বেত্রাঘাত করেন। এতে পুত্র আবু শাহমার মৃত্যু হয়। ইসলামের ইতিহাস এমন দৃষ্টান্তে ভরপুর।


৪। সমাজে ভাতৃত্ব ও সাম্য প্রতিষ্ঠাঃ ইসলাম একটি রাষ্ট্রে ভিতর কেবল মাত্র শাসক-শাসিত শ্রেণীর দুরত্ব কমায় না বরং তা লাঘব করে সমাজে ধনী-গরীব,উচু-নীচু,বড়-ছোট,কালো-সাদা সকল ধরনের ভেদাভেদ দূর করে। সমাজে সৃষ্টি করে মানুষের সাথে মানুষের ভাতৃত্ব যার ইঙ্গিত আমরা লক্ষ্য করি যখন সকল মুসলিমগণ জামায়াতের সাথে একত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায একত্রে আদায় করে তখন তাদের ভিতর থেকে সকল ধরনের ভেদাভেদ দূরীভূত হয়ে যায়। আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেন, “মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই।” [হুজুরাতঃ১০] 

৫। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক শাসনব্যবস্থাঃ এই ইসলামী শাসনব্যবস্থায় কুরআন-হাদীসভিত্তিক শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এরইর আলোকে আল্লাহ বলেন,,
তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। [নূরঃ৫৫] রাসূল(সাঃ) বলেছেন,, “আমি তোমাদের জন্য দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতদিন তা আঁকড়ে ধরবে ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হল আল্লাহর কিতাব এবং অপরটি হল তার রাসূলের সুন্নাহ।”

এর আলোকে আমরা বলতে পারি যে, মুসলিমগণ যদি কুরআন-সুন্নাহের আলোকে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলে তাহলে একটি আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ সফল হবে। আর এই কুরআন-হাদীস হল ইসলামী শাসনতন্ত্রের মূল সংবিধান।
৬। নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণঃ ইসলামী রাষ্ট্রব্যস্থায় সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা খলিফার জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য। খিলাফত ব্যবস্থায় বসবাসরত সকল নাগরিকের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা করা খলিফার জন্য একটি অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য।যেমন আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, “তোমরা কোন কারণ ছাড়া একে অন্যকে হত্যা কর না।”[বনী-ঈসরাইলঃ ৩৫]  “তোমরা একে অন্যের সম্পদকে অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না।” [নিসাঃ২৯]
“ধর্মের ব্যাপারে নেই কোন বাড়াবাড়ি।” [বাকারাঃ২৬০] 

এছাড়া খিলাফতের আরও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যিম্মীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, ঐক্যবদ্ধ  জাতি ও বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও সর্বোপরি দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা অন্যতম।  

গ। খুলাফায়ে রাশেদিনের নির্বাচনঃ

সাম্যবাদের মূর্ত প্রতীক হযরত মুহাম্মদ (স) কাউকে তার উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যাননি। তার কোনো পুত্র সন্তানও তাঁর ইনতিকালের সময়ে জীবিত ছিলেন না। এ কারণে মুসলিম উম্মাহর মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু হয়। খুলাফায়ে রাশেদিনের চারজন খলিফা কিভাবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন তার একটি বিবরণ নিচে তুলে ধরা হল- 
 ১. প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এর নির্বাচনঃ 
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ইন্তিকালের পর আনসারগণ সহীফায়ে বনি সায়েদা নামক মিলনায়তনে একত্রিত হন এবং খিলাফত সম্পর্কে আলোচনা করেন। আনসারগণ চেয়েছিলেন- খলিফা দুজন হোক। একজন আনসারদের মধ্য থেকে অন্যজন মুহাজিরদের মধ্য থেকে। এ কথা সুস্পষ্ট যে, খলিফা দু’জন হলে তা সাংঘাতিক মতানৈক্যের কারণ হতো। শুধু আনসারদের মধ্যে থেকেও খলিফা নির্বাচন করা সম্ভব ছিল না। | খিলাফতকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।

মহানবি (স.) এর চাচাত ভাই ও জামাতা হিসেবে একদল মুহাজির হযরত আলী (রা) কে রসুলের উত্তরাধিকারী বলে প্রচারণা চালান। এদিকে আনসারগণ কার্যায় গোত্রের দলপতি হযরত সা’দ বিন আবু উবায়দাকে খলিফা নির্বাচনের দাবী জানান। এই বিষয়ে যখন বাক-বিতন্ডা শুরু হলো তখন হযরত আবু বকর (রা) খুবই উত্তম পন্থায় আনসারদের বুঝাতে সক্ষম হলেন হযরত উমর (রা) এর উদ্দীপনায় সবাই এ ব্যাপারে একমত হলেন যে, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর উপর  খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করা হোক। অতঃপর মুহাজিরদের মধ্য হতে সর্বপ্রথম হযরত উমর (রা) এবং আনসারদের মধ্য হতে হযরত বাসির ইবনে সা'দ (রা) হযরত আবু বকর (রা) এর হস্ত ধারণ করে বাইআত গ্রহণ করলেন। তারপর উপস্থিত জনতা বাইআত গ্রহণ করেন। মোট কথা এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ভালোভাবে সমাধা হয়ে গেল।
বয়োজেষ্ঠ্যতা, রাজনৈতিক দুরদর্শিতা সূক্ষ্ম বিচার-বুদ্ধি, নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, সামাজিক কার্যকলাপ ও ব্যক্তিগত প্রভাবের জন্য ইসলামি রীতিতে হযরত আবু বকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হন। তাকে খলিফা নির্বাচনে রসুল (স)-এর সুস্পষ্ট নির্দেশ না থাকলেও পরোক্ষ ইঙ্গিত ছিল। খলিফা নির্বাচিত হয়ে হযরত আবু বকর (রা) ইসলামের সাম্যবাদ ও ভ্রাতৃত্ববোধে মুসলিম জাহানকে উদ্বুদ্ধ করেন।  

২. দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা) এর নির্বাচনঃ 
ইসলামি শরিয়ত মতে হযরত আবু বকর (রা) দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করে যান। খিলাফত নিয়ে যাতে কোন রকম দ্বন্দ্ব সংঘাত সৃষ্টি না হয়, এজন্য তিনি অন্তিম অবস্থায় প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবদুর রহমান (রা), হযরত উসমান (রা) হযরত সাউদ বিন যায়েদ (রা) এবং আরও বিশিষ্ট সাহাবাগণের সাথে পরামর্শ ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যোগ্যতার বিবেচনায় হযরত উমর (রা)-কে দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে উত্তরাধিকারী মনোনীত করে যান। 
হযরত উমরের (রা) কড়া মেজাজের জন্য হযরত তালহা (রা) তার সম্মতি দিতে ইতস্তত করলে হযরত আবু বকর (রা) হযরত তালহাকে বলেন যে, রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ববার গ্রহণ করলেই তিনি কোমল ও দয়ালু হয়ে যাবেন। হযরত আবু বকর (রা)এর ইনতিকালের পর দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে হযরত উমর (রা) এর মনোনয়ন ঘোষণা করা হলে জনসাধারণ তাঁর নিকট স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। এভাবে হযরত উমর (রা) গণতান্ত্রিকভাবে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন। 

৩. তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা) এর নির্বাচনঃ  
হযরত উমর (রা) নিজ জীবদ্দশায়ই খিলাফতের উত্তরাধিকারী নির্বাচনের দায়িত্ব হযরত উসমান (রা), হযরত আলী (রা), হযরত তালহা (রা), হযরত যুবাইর (রা), হযরত সা'দ (রা) এবং হযরত আবদুর রহমান বিন আউফকে নিয়ে গঠিত এক পরিষদের উপর ন্যস্ত করেন। আর তার ইনতিকালের তিনদিনের মধ্যেই মনোনয়ন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ সকল সাহাবাগণের মধ্যে সবাই ছিলেন ইসলামের খেদমতে সমানভাবে নিবেদিত। শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে কেউই একে অপরকে ছাড়িয়ে যাবার মত বিশেষত্ব দেখাতে পারেননি। হযরত আবু ওবায়দা বিন জাররাহ জীবিত থাকলে হয়ত যোগ্যতার বিবেচনায় তিনি  খলিফা নির্বাচিত হতে পারতেন। জনগণের নিকট বেশি শ্রদ্ধাভাজান ছিলেন হযরত আবদুর রহমান (রা)। কিন্তু খিলাফতের গুরুদায়িত্ব গ্রহণে তিনি রাজি ছিলেন না। হযরত আলী (রা)  ছিলেন মহানবি (স) এর জামাতা ও চাচাত ভাই। শিক্ষা-দীক্ষাও শৌর্যবীর্যে তার তুলনা ছিল না। পারস্য বিজয়ী বীর হযরত সা'দ (রা) এর ইসলামের জন্য অবদান ছিল অসামান্য এ সময় হযরত তালহা (রা) রাজধানী মদিনায় ছিলেন না। হযরত উসমান (রা) ৭০ বছরের প্রৌঢ় হলেও ইসলামের খেদমতে অকাতরে দান করেন এবং মহানবি (স) এর দু'কন্যা রোকেয়া ও উম্মে কুলসুমের জামাতা হয়ে যুননুরাইন খেতাবে ভূষিত ছিলেন।  

হযরত সা'দ (রা), হযরত তালহা (রা) ও হযরত জুবাইর (রা) খিলাফতের প্রত্যাশী ছিলেন না। এমন অবস্থায় হযরত আবদুর রহমান (রা) আপসে (রা), হযরত উসমান (রা) ও হযরত আলীর (রা) এর নাম প্রস্তাব করেন। হযরত সা'দ (রা) হযরত উসমান (রা)-কে সমর্থন করেন। হযরত জুবাইর (রা) হযরত উসমান (রা) ও হযরত আলী (রা) উভয়ের নাম প্রস্তাব করেন। হযরত উসমান (রা) হযরত আলীকে এবং হযরত আলী (রা) হযরত উসমান (রা)-কে সমর্থন দিলেন। হযরত আবদুর রহমান (রা) ভোটদানে বিরত রইলেন। ফলে হযরত উসমান (রা) এর পক্ষে একটি ভোট বেশি পড়ে এবং খলিফা নির্বাচিত হলেন। প্রত্যেকেই তার প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। হযরত তালহা (রা) ফিরে এলে হযরত উসমান (রা) তাঁকে খলিফা পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু তিনি এতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তিনি হযরত উসমান (রা.) এর প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। জনসাধারণ সবাই তার প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। এভাবে হযরত উমর (রা) এর মৃত্যর ৪র্থ দিনে ২৪ হিজরির ১লা মহরম (৬৪৪ খ্রিঃ) হযরত উসমান (রা) ইসলামি জগতের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন। 

৪. চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা) এর নির্বাচনঃ

খলিফা হযরত উসমান (রা) এর হত্যাকান্ডের পর আরবের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। খিলাফতের পবিত্রতা ও মর্যাদা | বিনষ্ট হয়। এ সময় তিনটি দলে উগ্রপন্থীরা বিভক্ত হয়ে স্ব-স্ব দলের মনোনীত ব্যক্তিকে খলিফা পদে বরণ করার জন্য তৎপর হয়ে উঠে। এরূপ গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে হযরত উসমান (রা) এর উত্তরাধিকারী তথা পরবর্তী খলিফা নির্বাচন খুবই কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়। বিদ্রোহী কুফাবাসীরা হযরত জুবাইর (রা), বসরাবাসীরা হযরত তালহা (রা) এবং মিসরীয়রা ইবনে সাবার নেতৃত্বে হযরত আলীকে খলিফা হিসেবে সমর্থন করে। পরিশেষে হযরত উসমান (রা) এর হত্যার ৫ম দিনে মিসরীয় বিদ্রোহীরা হযরত আলী (রা) এর নাম প্রস্তাব করেন। কুফা ও বসরার বিদ্রোহীরাও হযরত আলী (রা) কে সমর্থন জানান মদিনার প্রভাবশালী নাগরিকগণের অনুরোধে হযরত আলী (রা) খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি হন। জনসাধারণও তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ গ্রহন করেন। এভাবে গণতান্ত্রিক উপায়েই ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে হযরত আলী (রা) (২৩ জুন, ৬৫৬ খ্রি) নির্বাচিত হন। 

উপরোক্ত খলিফা নির্বাচন পদ্ধতি হতে একথা প্রমাণিত হয় যে, খুলাফায়ে রাশেদিনের নিয়োগ ও নির্বাচনের ব্যাপারে একই ধরনের বাহ্যিক পদ্ধতি অনুসৃত না হলেও প্রতিটি পদ্ধতিতেই জনমতকে নির্বাচনের ভিত্তিরূপে স্বীকার করা হয়েছে এবং কোন ক্ষেত্রেই জনমতকে উপেক্ষা করা হয়নি।বস্তুতঃ প্রকৃত খিলাফতের এটি মৌলিক ভাবধারা এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য প্রতিটি যুগে ও অবস্থায়ই এটি কার্যকর হওয়া একান্ত অপরিহার্য। উপরন্তু মৌলিক ভাবধারাকে যথোপযুক্ত মর্যাদা ও গুরুত্ব সহকারে রক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের যে কোন বাহ্যিক পদ্ধতি গ্রহন করা যেতে পারে।কেননা ইসলামে বাহ্যিক অবয়ব ও আকার-আকৃতির বিশেষ গুরুত্ব নাই।

ঘ। খলিফার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলিঃ (যেকোনো ৪টি লিখতে পারো) 

আল্লাহ তায়ালার প্রত্যাদেশ লাভ ব্যতীত খলিফাকে নবুয়তের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই তাঁকে ঐ সমস্ত আত্মিক, দৈহিক ও চারিত্রিক গুণাবলিতে গুণান্বিত হওয়া উচিত, যার দ্বারা একজন নবি গুণান্বিত হয়ে থাকেন। একজন খলিফার চারিত্রিক গুণাবলির সঙ্গে একজন নবির গুণাবলির হুবুহু মিল না থাকতে পারে। তবে, নবির সমস্ত গুণাবলির প্রতিবিম্ব খলিফার মধ্যে থাকা একান্ত প্রয়োজন। খলিফা নির্বাচনের জন্য কইয়েকটি গুণাবলি ও যোগ্যতা নিচে উল্লেখ করা হল  –

১। ন্যায়পরায়নতাঃ একজন খলিফার মধ্যে ন্যায় পরায়নতা সত্যবাদিতা ও সৎ কাজের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে।ইসলাম নীতি-নৈতিকতার উপর সর্বদা গুরুত্বারোপ করে থাকে। যে ব্যক্তি মুসলিম মিল্লাতের শাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে তার অন্তরকে পবিত্র হতে হবে। 

২। দৃঢ়চিত্ততাঃ  ইসলামি শরিয়তের বিধান বাস্তবায়ন, ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষণাবেক্ষণ, জ্ঞান, কলাকৌশল, প্রজ্ঞা, প্রত্যয় ও সাহস অবশ্যই থাকতে হবে।

৩। ইন্দ্রিয় ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুস্থতাঃ একজন খলিফা শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন। বিকলাঙ্গ হওয়া ঠিক নয়। তার চোখ, নাক, কান, কণ্ঠস্বর, হাত-পা ইত্যাদির সুস্থ ও সবল থাকতে হবে।এটা ইমামতের অন্যতম প্রধান শর্ত। কারণ পাগল ব্যক্তি নেতৃত্বদানে সম্পূর্ণরুপে অক্ষম।আল্লাহ বলেন, “আর যে সম্পদকে আল্লাহ তোমাদের জীবন-যাত্রার অবলম্বন করেছেন, তা অর্বাচীনদের হাতে তুলে দিও না।” [নিসাঃ ৪]

৪। পুরুষ হওয়াঃ মহিলাদের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার কোন ইখতিয়ার ইসলামে নেই। কারণ আল্লাহ পাক সৃষ্টিগতভাবে পুরুষদের নারীদের উপর ক্ষমতা প্রদান করেছেন।আল্লাহ পাক বলেন, “পুরুষেরা নারীদের উপর কৃর্তত্বশীল” [নিসাঃ ৩৪] তাছাড়া রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে জাতির নেতৃত্ব কোন মহিলাকে দিবে তারা কখনও সফল কাম হবে না।”

৫। স্বাধীন হওয়াঃ কোন ক্রীতদাস মুসলিম মিল্লাতের নেতৃত্ব কখনও দিতে পারে না। কারণ ইসলাম কেবলমাত্র এক আল্লাহ পাকের দাসত্ব করার নির্দেশ প্রদান করে। কুরআনে বলা হয়েছে, “আমরা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোন শরীক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না।” [ইমরানঃ ৬৪] 

৬। শরীয়াতের হুকুম কার্যকর করাঃ
ইমামতের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল ইসলামকে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা। তাই তার ভিতর এরকম যোগ্যতা থাকতে হবে যার দ্বারা সে শরীয়াতের হুকুমকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

৭।বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ হওয়াঃ
সমগ্র মুসলিম মিল্লাতকে পরিচালনা করার জন্য ইমামকে অত্যন্ত বিচক্ষণ হতে হবে। কারণ রাজনৈতিক দুরদর্শিতা ছাড়া কখনও সঠিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না।

৮। ইসলামী জ্ঞান থাকাঃ
যে ব্যক্তি ইমামত লাভ করবে তার ইসলামী বিষয়সহ অন্যান্য যাবতীয় বিষয়ের উপর পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তা নাহলে সে কখনও সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের নেতৃত্বে প্রদানে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে না।

খিলাফতের শাসনব্যবস্থায় সর্বজনীন মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার সুযোগ-সুবিধা ছিল পূর্ণমাত্রায় কার্যকর,যা পাশ্চাত্যের ধর্মহীন গনতন্ত্রে খুঁজে পাওয়া যায় না। ইসলামী জীবন ব্যবস্থার পরিপূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নে খুলাফায়ে রাশেদিন এর যুগ  একটি অনন্য দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ। রাসূলে করীম (স)- এর ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে ওহী নাজিলের ধারা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় । তারপর দুনিয়ার মানুষের নিকট জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মাত্র দুইটি ভিত্তিই অবশিষ্ট থাকে। একটি আল্লাহ্‌র কিতাব আর দ্বিতীয়ত রাসূলের সুন্নাত। আল্লাহ্‌ তা’আলা বিশ্ব মানবের জন্য সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ বিধান হিসেবে সর্বশেষ নবীর মাধ্যমে কোরআন মাজিদ নাজিল করেছেন। রাসূলের (স.) দেখানো পথ ও কোরআন মাজিদের আদর্শ একত্রে খিলাফত কায়েম ও পরিপূর্ণ সফলকাম হয়েছিলো ।





Post a Comment

0 Comments